ইউনিজয় English

জবি ও চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ

11-05-10.jpg
Jugantor_logo
যুগান্তর ডেস্ক
রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রামের কমার্স কলেজে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবারের এ সংঘর্ষে ২৮ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েই সাধারণ শিক্ষার্থীসহ ২৫ জন আহত হয়েছে। লাঞ্ছিত হয়েছেন এক শিক্ষিকা। ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের একটি কক্ষ ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছে। দুই শিক্ষার্থীকে আটক করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের ছাড়িয়ে এনেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে ভর্তি বাণিজ্য ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ৩ জন আহত হয়।

জবি প্রতিনিধি জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন সংশোধনের দাবিতে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় শিবির সন্দেহে ২ শিক্ষার্থীকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। পরে বিকাল পৌনে ৫টার দিকে বিভাগীয় চেয়ারম্যান থানায় গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনেন। ক্যাম্পাসে এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২৭(৪) ধারা বাতিলের দাবিতে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষার্থীরা দিকে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে শহীদ মিনারের পাদদেশে সমবেত হয়। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিসংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহার করে। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে পুরাতন বাণিজ্য ভবনের নিচে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে আইন সংশোধনের দাবি জানায়। একই সঙ্গে তাদের দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে বলে তারা প্রশাসনকে হুমকি দেয়। বেলা ১১টায় আন্দোলন চলাকালীন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী আবু সাঈদ গ্রুপের সৌরভ, তরিকুল, সুমন, মিলন, মাহাদীসহ বেশ কয়েকজন কর্মী ক্লাসে অবস্থানের দায়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা ওই বিভাগের শিক্ষিকা সৈয়দা নাজিয়া ইশরাতকে লাঞ্ছিত করে এবং ক্লাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে রিনা, সুপ্তা, সুরাইয়া, বনশ্রী, তন্নী, অঞ্জু, নুসরাত, সায়লা আক্তারসহ ৮ ছাত্রী আহত হয়। হামলাকরীরা ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ১১৩ নম্বর কক্ষটিও ভাংচুর করে। এ খবর পেয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি গ্রুপের কর্মী জালালের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন কর্মী লাঠিসোটা নিয়ে সেক্রেটারি গ্রুপের কর্মীদের ধাওয়া করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। উভয় গ্রুপ একে অন্যকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এভাবে প্রায় এক ঘন্টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় গ্রুপের বিশ্বজিৎ, পরিমল, কানন, রোখন, রানা, আরিফ, সৌরভ, সুমন, জিকু, মাহাদী, সোলেইমান, শফিক, তুহিনসহ কমপক্ষে ১৭ জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থল থেকে মামুন (পরিসংখ্যান পঞ্চম সেমিস্টার) এবং বাবলু (গণিত পঞ্চম সেমিস্টার) নামে ২ শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। পরে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় চেয়ারম্যান থানায় গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনেন। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মেসবাউদ্দিন আহমেদ বলেন, এটি একটি অনাকাঙিক্ষত ঘটনা। ঘটনার রহস্য উ˜ঘাটনের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অশোক কুমার সাহা বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ব্যাপারে একাডেমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, নগরীর কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ জন আহত হয়েছে। ভর্তি বাণিজ্য ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সোমবার দুপুরে আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত কলেজ গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হল- রুবেল কান্তি দাশ, রাজু আহমেদ ও ইবান। তিনজনই আজম নাসির সমর্থিত ছাত্রলীগের কর্মী। সংঘর্ষের সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আতংকে ছোটাছুটি করে সাধারণ লোকজন। এক ঘন্টা ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ জানায়, এলাকায় তেমন কিছু ঘটেনি। ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার তানবির আরাফাত যুগান্তরকে জানান, কলেজ গেটের সামনে এক গ্রুপের কর্মী অপর গ্রুপের এক সমর্থককে চড় মারে। এ নিয়ে দুু’গ্রুপের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করলেও পুলিশ থাকায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কমার্স কলেজের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আজম নাসির সমর্থিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর সঙ্গে আবদুল কাদের সমর্থিত কর্মীদের বিরোধ চলছিল। একাধিকবার উভয় গ্রুপ সংঘর্ষেও লিপ্ত হয়। সোমবার সকালে ছাত্র ভর্তি নিয়ে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীর মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এর জের ধরে দুপুরে কলেজ গেটের সামনে দুই গ্রুপ আবারও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এক ঘন্টা ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের ঘটনায় কলেজ ছাত্রলীগের তিন কর্মী আহত হয়। তাদের চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।সংঘর্ষের ঘটনার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করছে। নাসির গ্রুপ সমর্থিত কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সালাহ উদ্দিন কাদের যুগান্তরকে জানান, মাছ কাদের সমর্থিত ছাত্রলীগ নেতা এহসান ও মেহেদীর নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা নিয়মিত ছাত্রছাত্রীদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। অপরদিকে কাদের গ্রুপের দাবি, তারাই কলেজের নিয়মিত ছাত্র। বরং নাসির গ্রুপই বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা করছে।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর, ১১ মে ২০১০

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য যোগ করুন


ইউনিজয় ফোনেটিক প্রভাত English