ইউনিজয় English

বরিশালে ছাত্রলীগ এখন নিজেরাই নিজেদের শত্রু

shomokal.jpg
পুলক চ্যাটার্জি, বরিশাল ব্যুরো
বরিশালে বেপরোয়া ছাত্রলীগ এখন নিজেরাই নিজেদের শত্রু। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাত্রলীগ একের পর এক সহিংসতা চালাচ্ছে। মহাজোট সরকার গঠনের পর ছাত্রলীগের সহিংসতা শুরু হয়। মেডিকেল কলেজ, বিএম কলেজ ও পলিটেকনিক কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বিবদমান গ্রুপগুলো আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে নিজেরাই বারবার সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। ছাত্রলীগের সংঘাত-সহিংসতা চরম পর্যায়ে পেঁৗছলে লোক দেখানোর জন্য দু-এক নেতাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরিস্থিতি শান্ত হলে আবার বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ক্রমেই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের এ অপতৎরতার কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগও এখন বিব্রত।

গত সাধারণ নির্বাচনের পর নগরীর কলেজগুলোতে ছাত্রদল ও শিবির নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। ফলে বিনা বাধায় রাজ্য জয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়। এর পরই ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে শুরু হয় ক্যাম্পাসগুলোতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। প্রথম বহিঃপ্রকাশ ঘটে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজে (শেবাচিম) ২০০৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন। কলেজ শাখা সভাপতি জাফর গ্রুপকে কোণঠাসা করে বঙ্গবন্ধু ইন্টার্নি চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. রমিজউদ্দিন পুরো ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ পেতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। ৪ জানুয়ারি মহানগর ছাত্রলীগের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের জন্য মেডিকেল কলেজ থেকে আলাদা আলাদাভাবে রওনা হওয়ার আগেই উভয় গ্রুপ ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের পর রাতে মহানগর ছাত্রলীগ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে। তবে ক্যাম্পাসে উভয় গ্রুপের সংঘাত থেমে থাকেনি। একই বছরের ১৬ এপ্রিল উভয় গ্রুপ আবারও মুখোমুখি অবস্থান নিলে কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

শেবাচিম ক্যাম্পাসে রমিজ গ্রুপের বাধার মুখে গত বছরের ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি সন্ধানী, যুব রেড ক্রিসেন্ট এবং মেডিসিন ক্লাব তালাবদ্ধ করে রাখে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা। রমিজ গ্রুপের চাপের মুখে যুব রেড ক্রিসেন্টের কার্যক্রম ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করে কলেজ প্রশাসন। মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদকে অকার্যকর করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে ছাত্র কল্যাণ পরিষদ।

মহাজোট ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বিএম কলেজেও একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসে তারা ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। একাধিকবার হামলা করার পর ছাত্রদল ক্যাম্পাসে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। এ অবস্থায় ছাত্রলীগ নিজেদের মধ্যে সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে। ভর্তি বাণিজ্য নিয়ে গত দেড় বছরে একাধিকবার ক্যাম্পাসে যুগ্ম আহ্বায়ক মইন তুষার ও রফিক সেরনিয়াবাদ সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষ বহিরাগতদের নিয়ে একাধিকবার ক্যাম্পাসে সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে। এ ঘটনায় মইন তুষারকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের প্রশাসনিক ভবনের একটি কক্ষ দখল করে সংগঠনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছে ছাত্রলীগ কর্মীরা। গত বছরের জুনে সরকারি মহিলা কলেজের ৬ লাখ টাকার একটি দরপত্রকে কেন্দ্র করে ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান মুন্নাকে কুপিয়ে আহত করে নিজ সংগঠনের প্রতিপক্ষরা। বরিশাল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় হাউজিতে প্রতিদিন ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে গত ২৫ এপ্রিল মধ্যরাতে বাণিজ্যমেলায় ব্যাপক হামলা-ভাংচুর করে শতাধিক ছাত্রলীগ কর্মী। চলতি মাসের শুরুতে বরিশাল আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতাকে লঞ্চঘাটে বিদায় জানাতে সেখানে মহানগর ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগ পৃথক মহড়া দেয়। এ ঘটনায় কলেজ শাখার ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে ঢাকায় ডেকে এনে শাসানো হয়েছে। গত বছর মহাজোট ক্ষমতাসীন হওয়ার পরই বরিশাল পলিটেকনিক কলেজে ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়। কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের প্রতিপক্ষ সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানকে শেল্টার দিচ্ছে কলেজ সংলগ্ন কালুশাহ সড়কের বাসিন্দা ও মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুর রহমান ছাবিদ। ক্যাম্পাসে গত দেড় বছরে রাজ্জাক ও মিজান গ্রুপ একাধিবার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে রাজ্জাক কলেজের পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা চেয়ে না পেয়ে অধ্যক্ষের অপসারণের দাবি তুলে ক্যাম্পাসে অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাজ্জাক ও মিজান গ্রুপের সংঘর্ষে ৫ ছাত্রলীগ কর্মীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়।

তথ্যসূত্র: সমকাল, ৬ মে ২০১০

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য যোগ করুন


ইউনিজয় ফোনেটিক প্রভাত English