টেন্ডারবাজিঃ নাজিরপুর স্টাইল
০ নাজিরপুর (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
ৰমতাসীন দলের অংগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের টেন্ডারবাজি নিয়ে সরকার যখন চরমভাবে বিব্রত হয়ে তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে ঠিক সেই সময়েই একটু কৌশল পাল্টে ভিন্নভাবে টেন্ডারবাজি করে নাজিরপুর উপজেলায় ১২ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন এক যুবলীগ নেতা। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী চরম ৰোভ প্রকাশ করে টেন্ডারবাজির বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের উপর মহলের হস্তৰেপ কামনা করেছেন। উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এডিবি (রাজস্ব) প্রকল্পের অধীনে ১১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা প্রকল্প ব্যয় ধরে নাজিরপুর উপজেলা সদর বাজারের তিনটি ছোট রাস্তা হেরিং বন্ড ও দুইটি পাকা ড্রেন নির্মাণের জন্য উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তর গত ১৬ মার্চ দরপত্র আহবান করে। দরপত্রের শিডিউল বিক্রির শেষ তারিখ ছিল গত ১২ এপ্রিল এবং টেন্ডার ড্রপিং এর শেষ তারিখ ছিল ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। যে সময়ের মধ্যে উপজেলা যুবলীগসহ সভাপতি মোঃ নান্না মিয়ার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিলন এন্টারপ্রাইজ ও তার সমর্থনে তিনটি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৪টি শিডিউল বিক্রি এবং জমাও করা হয় ৪টি শিডিউল। আর গত ৩ মে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসাবে কার্যাদেশ দেয়া হয় যুবলীগ নেতা মোঃ নান্না মিয়ার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মিলন এন্টারপ্রাইজকে।
অভিযোগ রয়েছে , ৰমতাসীন দলের স্থানীয় একটি মহল উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতিকে কাজ পাইয়ে দিতে দলীয় অন্য ঠিকাদারদের কোন প্রকার শিডিউল কিনতে নিষেধ করায় এবং সাধারণ ঠিকাদারদের কাছে শিডিউল বিক্রি করতে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর থেকে পরোৰ নিষেধাজ্ঞা জারি করার কারণে দলীয় ও সাধারণ ঠিকাদাররা শিডিউল কিনতে না পারায় উপজেলা যুবলীগ সহ-সভাপতির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সহজেই কাজটি পেয়ে যায়।
কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন যে, উলেস্নখিত কাজের শিডিউল কিনতে গেলে উপজেলা প্রকৌশল অফিস থেকে ৰমতাসীন মহলের এক বিশেষ ব্যক্তির সাথে কথা বলে শিডিউল কিনতে পরামর্শ দেয়া হয়। এ ঘটনায় অনেকেই ভয়ে এবং বিব্রত হয়ে শিডিউল কেনা থেকে বিরত থাকে। নাজিরপুরের পুরনো ঠিকাদার মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান খান জানান যে, তিনি একটি শিডিউল কিনলেও তা পরবর্তীতে উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাসের চাপের মুখে ফেরত দিয়ে দেন। উপজেলা যুবলীগের অরেক সহ-সভাপতি মোঃ ফিরোজ খান খসরম্ন জানান যে, তিনি উপজেলা প্রকৌশল অফিসে শিডিউল কিনতে গেলে সেখান থেকে একটি বিশেষ মহলের সাথে কথা বলতে পরামর্শ দেয়া হয়। ঐ মহলের সাথে কথা বললে বলা হয়, ‘সব কাজে হাত দেবেন না।’ এ ঘটনায় উপজেলার ত্যাগী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী চরমভাবে ৰুব্ধ বলেও দাবী করেন এ যুবলীগ নেতা।
অভিযোগের বিষয়ে কথা হলে উপজেলা প্রকৌশলী হরলাল ঘোষ বলেন, ‘আমার অফিস থেকে কাউকে শিডিউল কিনতে বাধা দেয়া হয়নি, কিছু হলে সেটা অফিসের বাইরে হয়ে থাকতে পারে।’ এদিকে উপজেলার অনেক প্রবীণ ও নবীন সাধারণ ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন যে, সরকার ৰমতায় আসার পর নাজিরপুরে যত কাজের দরপত্র আহবান করা হয়েছিল ও তার কাজ দেয়া হয়েছিল ম্যানেজ পদ্ধতিতে। এবারেও ভিন্নভাবে টেন্ডারবাজি করা হল, এ অবস্থায় আমাদের ঠিকাদারী পেশা ছেড়ে অন্য কোন পেশায় চলে যাওয়া ছাড়া বিকল্প উপায় নেই। ”
তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক, ৮ মে ২০১০
