তারেক কোকো পটল মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা


কোর্ট রিপোর্টার
পৃথক দুটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এছাড়া আয়কর ফাঁকির অপর একটি মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সোমবার ঢাকার পৃথক দুটি আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির এ আদেশ দেন। চাঁদাবাজি মামলায় তারেক রহমান ও তার বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর হাকিম মেহেদী হাসান তালুকদার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আর ৫২ লাখ ৩৯ হাজার ২২৬ টাকার আয় গোপন করে এর ওপর প্রযোজ্য কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে সোমবার আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মামলা দায়ের করলে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ এএনএম বশির উল্লাহ তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ১১ মার্চ গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন বিচারক। কোকো বর্তমানে সরকারের নির্বাহী আদেশে বিদেশে অবস্থান করছেন। এদিকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের বিরুদ্ধেও আয়কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে গতকাল একই আদালতে পৃথক একটি মামলা দায়ের করা হলে বিচারক পটলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ১০ মার্চ গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
তারেক রহমানের মামলা : ১০ কোটি ৩১ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করার অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক প্রশাসন খায়রুল বাশার ২০০৭ সালের ৯ এপ্রিল তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনসহ ৬ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা করেন। এ মামলায় গিয়াসউদ্দিন আল মামুন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে জানায়, চাঁদাবাজি করে নেয়া টাকার ভাগ তারেক রহমানও পেয়েছেন। এরপরই তারেক রহমানকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে তারেক রহমানসহ অন্যরা এ মামলায় জামিন পান। এর মধ্যে অভিযুক্তরা মামলাটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। পরে আপিল বিভাগে গত বছরের ২ নভেম্বর স্থগিতাদেশ বাতিল হয়। আপিল বিভাগের এ আদেশ নিম্ন আদালতের নথিতে আসার পর সোমবার মামলাটির ধার্য তারিখে আদালতে তারেকসহ ৬ আসামি হাজির না থাকায় হাকিম মেহেদী হাসান তালুকদার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে মামলার আসামি মানিক আদালতে হাজির থাকায় তার জামিন বাতিল করেননি আদালত। তারেক রহমান ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুন ছাড়া অপর যেসব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা হলেন ওবায়দুল্লাহ খন্দকার ওরফে সোহেল, কামরুজ্জামান, মাহবুব, হাবলু ও মোটা তারেক। এ মামলায় ২১ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্তদের পক্ষে আদালতে গতকাল কোন পদক্ষেপও নেয়া হয়নি।
কোকোর মামলা : কোকোর বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে সোমবার কোম্পানির সার্কেল ১৮, কর অঞ্চল ৬-এর উপকর কমিশনার মোঃ শাহীন আক্তার হোসেন মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বলা হয়, ২০০২-২০০৩ করবর্ষ থেকে ২০০৬-২০০৭ করবর্ষ পর্যন্ত কোকো তার বিভিন্ন খাতে অর্জিত ৫২ লাখ ৩৯ হাজার ২২৬ টাকা আয়ের তথ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে দাখিল করা আয়কর রিটার্নে গোপন করেন এবং এর ওপর প্রযোজ্য কর ফাঁকি দেন। কোকোর বিরুদ্ধে ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ১৬৫ ও ১৬৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ এএনএম বশির উল্লাহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
পটলের মামলা : বিগত জোট সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকির মামলা দায়ের করেন কর অঞ্চল-৬ ও কর সার্কেল ৬০-এর উপকর কমিশনার মোঃ মিজানুর রহমান। অভিযোগে বলা হয়, পটল ২০০৫-২০০৬ করবর্ষের দাখিল করা আয়কর রিটার্নে তার ব্যাংক সুদের আয় ২৭ লাখ ৪৬ হাজার ৪০৪ টাকা গোপন করেন। পটলের বিরুদ্ধেও আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ১৬৫ ও ১৬৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচারক এএনএম বশির উল্লাহ বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পটলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর, ২ মার্চ ২০১০