তারেক ও কোকোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

আদালত প্রতিবেদক |
চাঁদাবাজির মামলায় তারেক রহমান এবং আয়কর ফাঁকির মামলায় আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আয়কর ফাঁকির পৃথক মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক ও কোকো বিদেশে আছেন।
গতকাল সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত পাঁচ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে করা মামলায় তারেক রহমানের জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালত ২১ এপ্রিলের মধ্যে পরোয়ানা জারিসংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। কোকো সরকারের নির্বাহী আদেশে চিকিত্সার জন্য বিদেশে আছেন। এ অবস্থায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি শাহ আলম তালুকদার বলেন, মামলায় কোকোর ঠিকানা ক্যান্টনমেন্টের শহীদ মইনুল রোডের বাসার উল্লেখ আছে। তাই আদালত ওই ঠিকানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। থানার পুলিশ পরোয়ানা জারিসংক্রান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
তারেকের বিরুদ্ধে মামলা: ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ২৬৫ কোটি টাকার একটি কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবদুল মোমিন লিমিটেড। তারেক রহমান, তাঁর বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ওই কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানটির কাছে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক কোটি ৫০ লাখ টাকা চেকের মাধ্যমে চাঁদা দেয়। ২০০৭ সালের ৯ এপ্রিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক খায়রুল বাশার শাহবাগ থানায় তারেকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তারেক রহমান ওই বছরের ২ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন। পরের বছর এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। গত বছরের ২ নভেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আদেশ দেন। গতকাল এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তারেক ও তাঁর বন্ধু মামুনসহ ছয়জন হাজির না থাকায় আদালত তাঁদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
অন্য আসামিরা হলেন কামরুজ্জামান, মাহবুবুল আলম, ওবায়দুল খন্দকার ওরফে সোহেল, আজিজুল করিম। আসামি মানিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
কোকোর আয়কর মামলা: আয়কর বিবরণে ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ৫২ লাখ ৩৯ হাজার টাকার তথ্য গোপন ও এর ওপর প্রযোজ্য কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে এনবিআরের কর-উপকমিশনার শাহীন আক্তার হোসেন গতকাল এ মামলা দায়ের করেন। তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ১৬৫ ও ১৬৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, আরাফাত রহমান কোকো সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হওয়া সত্ত্বেও দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাননি। আরাফাত রহমান তাঁর প্রকৃত আয় গোপন করে সম্পদ বিবরণে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। আসামি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হয়েও আয়কর বিবরণে সম্পদের তথ্য গোপন করে আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন।
মামলার আর্জিতে আরও বলা হয়, কোকো ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ব্যয় দেখিয়েছেন। এনবিআর অনুসন্ধানে বিভিন্ন করবর্ষে আয়কর বিবরণে প্রকৃত তথ্য গোপনের প্রমাণ পায়। মামলায় এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব সামিয়া আকতার, থাই এয়ারওয়েজের ম্যানেজার মো. ফয়সাল ও বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ২০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
ফজলুর রহমান পটলের বিরুদ্ধে মামলা: ২৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকার তথ্য গোপন করে এর ওপর প্রযোজ্য কর ফাঁকির অভিযোগে এনবিআরের কর-উপকমিশনার মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ফজলুর রহমান ২০০৫-০৬ করবর্ষে একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী হয়েও প্রচলিত আইন ভঙ্গ করে আয়কর বিবরণে ২৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকার প্রকৃত আয় গোপন করেছেন। এর ওপর প্রযোজ্য সাড়ে সাত লাখ টাকার আয়কর ফাঁকি দেন। এটা আয়কর অধ্যাদেশের ১৬৫ ও ১৬৬ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আদালত শুনানি শেষে ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন। এ মামলায় চারজনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, ২ মার্চ ২০১০