ইউনিজয় English

তারেক-কোকোর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা চাঁদাবাজি ও কর ফাঁকির মামলা

02-03-10.jpg
Ittefaq_logo
০ কোর্ট রিপোর্টার

দশ কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনসহ ছয়জনের বিরম্নদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। হাজির না হওয়ায় এবং তারেক রহমানের পৰে কোন সময়ের আবেদন না করায় মহানগর হাকিম মেহেদি হাসান তালুকদার গতকাল সোমবার এই আদেশ প্রদান করেন। এছাড়া পৃথক দুটি কর ফাঁকির মামলায় খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের বিরম্নদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আনম বশির উলস্নাহ এই আদেশ প্রদান করেন।

উলেস্নখ্য, তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য লন্ডনে এবং আরাফাত রহমান কোকো প্যারোলে মুক্তি নিয়ে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন।

এ প্রসঙ্গে তারেক রহমানের কৌঁসুলি এডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, তারেক রহমান সরকারের অনুমতি সাপেৰে বিদেশে চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছেন। আদালত আসামীর নিযুক্ত আইনজীবীদেরকে নোটিস না দিয়েই জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এটি বেআইনী।

উলেস্নখ্য, তারেক রহমান ও তার ব্যবসায়িক পার্টনার গিয়াস উদ্দিন আল মামুনসহ ৭ জনের বিরম্নদ্ধে ১০ কোটি ৩১ লৰ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে বহুমুখী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোমেন লিমিটেডের খায়রম্নল বাশার ২০০৭ সালের ৯ এপ্রিল শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলায় বলা হয়েছিল, ১৯৯৭ সালে আব্দুল মোমেন কোম্পানির যমুনা সেতু সংযোগ সেতু প্রকল্পের আওতায় ২৬৫.৯৯ কোটি টাকার কাজ পায়। কাজ পেলে উলেস্নখিত আসামীরা বিভিন্ন সময় পরস্পরের যোগসাজশে ২০০১ থেকে ২০০৩ এর জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে উক্ত কোম্পানির নিকট চেক ও নগদে সর্বমোট ১০ কোটি ৩১ লৰ টাকা চাঁদা হিসাবে গ্রহণ করেন। তারেক রহমান সরকারের এক নির্বাহী আদেশে জামিন পেয়ে বর্তমানে ইংল্যান্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইতিপূর্বে তিনি এ মামলায় আদালত থেকে জামিন নিলেও মামলায় যথাসময়ে কোন পদৰেপ না নেওয়ায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

এদিকে ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে আরাফাত রহমান কোকোর বিরম্নদ্ধে কর ফাঁকির মামলা দায়ের করেন ঢাকার উপকর কমিশনার শাহীন আক্তার হোসেন।

মামলায় বাদি বলেছেন, আরাফাত রহমান কোকো সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পুত্র হওয়া সত্ত্বেও প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না থেকে এবং তার প্রকৃত আয়-ব্যয় ও সম্পদের তথ্য গোপন করে আয়কর বিভাগের নিকট ২০০২ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বারংবার মিথ্যা তথ্য প্রদান করে কর ফাঁকির অপরাধ করেছেন। আসামী কোকো একজন সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, বিত্তবান ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও মিথ্যা ঘোষণা প্রদান, মিথ্যা তথ্য সরবরাহ ও কর ফাঁকি প্রদান করে ১৯৮৪ এর ধারায় ১৬৫ ও ১৬৬ এর অধীনে অপরাধ করেছেন। এ কারণে তাকে আইনের আওতায় এনে সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বার্থহানিকর অনুরূপ অপরাধ হতে নিবৃত্ত করার লৰ্যে অত্র মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলায় সরকার পৰে সাৰী হিসাবে ২০ জনের নাম উলেস্নখ করেছেন। মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ১১ মার্চ ধার্য করা হয়েছে।

এছাড়া চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের বিরম্নদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ এনে মামলা করেছেন উপ-কর কমিশনার মোঃ মিজানুর রহমান। মামলার এজাহারে বলা হয়, ফজলুর রহমান পটল আয়কর বিভাগের নিকট তার প্রকৃত আয়কর এবং সম্পদের তথ্য গোপন করে ২৬ লৰ ১০ হাজার ১ শত ৭৯ টাকার কর ফাঁকি দিয়েছেন। পৃথক এই দুটি কর ফাঁকির মামলায় আদালত তাদের বিরম্নদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এছাড়া ১১ মার্চ পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য রেখেছে।

তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক, ২ মার্চ ২০১০

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য যোগ করুন


ইউনিজয় ফোনেটিক প্রভাত English