ইউনিজয় English

বাবরের তথ্য পাচার

23-02-10.jpg
Ittefaq_logo
সিআইডির ৩ এসআই সাসপেন্ড

০ ইত্তেফাক রিপোর্ট

পুলিশ প্রশাসনের অন্যতম গুরম্নত্বপূর্ণ সংস্থা সিআইডি সদর দফতর থেকে রিমান্ডে থাকা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের দেয়া গুরম্নত্বপূর্ণ তথ্য তিন পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে বাইরে পাচার করার ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার সিআইডি পুলিশের তিন এসআইকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এর আগে বাবর সিআইডিতে রিমান্ডে থাকাকালে তাকে এসআই দেলোয়ারের মোবাইল ফোনে বিএনপির এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে বাবরের কথা বলার সুযোগ দেয়া হয় এবং এ ঘটনা হাতে-নাতে ধরা পড়ে। ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর সিআইডির এসআই দেলোয়ারকে সাসপেন্ড করা হয়।

বর্তমান পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থায় ঘাপটি মেরে থাকা বাবরের অনুগত রাজাকার, আলবদর, জঙ্গি ও স্বাধীনতা বিরোধী সমর্থক পুলিশ কর্মকর্তাদের তথ্য পাচারসহ সরকারের বিরম্নদ্ধে ষড়যন্ত্র রোধ করতে ব্যর্থতার পরিচয়ে দিয়ে আসছে প্রশাসন। গুরম্নত্বপূর্ণ পদে রাজধানীতেও এই সকল বিতর্কিত ও দলবাজ পুলিশের সংখ্যা বেশি। আওয়ামী লীগসহ মহাজোটের একশ্রেণীর নেতা, এমপি ও মন্ত্রীদের আশীর্বাদে কিংবা উৎকোচ বাণিজ্যের মাধ্যমে তারা রাজধানীসহ গুরম্নত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টিং নিচ্ছে বা বদলি হয়ে যাচ্ছে। নব্য আওয়ামী লীগার সেজে তারা এই সুযোগ নিতে তৎপর। আর নিষ্ঠাবান ও স্বাধীনতার পৰ শক্তির সমর্থক হিসাবে পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তারা কোণঠাসা। রাজাকার, আলবদর ও জঙ্গি সমর্থক পুলিশ কর্মকর্তারা গোপন তথ্য পাচার ও সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে কয়েক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়া হত্যা মামলায় সিআইডি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরকে ছয়দিনের রিমান্ডে আনে। সিআইডি সদর দফতরে রেখে বাবরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে কিবরিয়া হত্যা, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলাসহ চাঞ্চল্যকর মামলা সম্পর্কে বাবর গুরম্নত্বপূর্ণ তথ্য দেন। বাবর রিমান্ডে থাকাকালে সিআইডি পুলিশের ঐ এসআই তাকে মোবাইল ফোনে বিএনপির শীর্ষ নেতা এবং নিকটতম আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেন। বাবর যে সকল তথ্য সিআইডিকে দিয়েছেন, তাও এসআইয়ের মোবাইল ফোনে বাবর শীর্ষ নেতাদেরকে জানিয়ে দেন। সাসপেন্ড হওয়া এসআই দেলোয়ার জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডির কর্মকর্তাদের জানান যে, শুধু তিনি একাই মোবাইল ফোনে বাবরের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতা ও আত্মীয়স্বজনের যোগাযোগ করিয়ে দেন তা নয়। আরো তিন এসআই একইভাবে বাবরকে মোবাইল ফোনে তথ্য পাচার করার ব্যবস্থা করে দেন। তার দেয়া তথ্যানুযায়ী সিআইডির শীর্ষ কর্মকর্তারা তিন এসআইকে সনাক্ত করেন। এই তিন এসআইয়ের মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাচাই-বাছাই করে শীর্ষ কর্মকর্তারা দেলোয়ারের বক্তব্যের সত্যতা পান। এই সত্যতা পাওয়ার পর গতকাল তিন এসআইকে সাসপেন্ড করা হয়। শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা এর সত্যতা স্বীকার করেছেন।

গোয়েন্দা সূত্রে বলা হয়, জোট সরকারের আমলে প্রায় ২৬ হাজার পুলিশ নিয়োগ দেয়া হয়। এর মধ্যে উৎকোচ বাণিজ্যের মাধ্যমে অপরাধীরা নিয়োগ পেয়েছে। এছাড়া দলীয় ক্যাডার এবং মুক্তিযোদ্ধার কোঠায় রাজাকার, আলবদর, জঙ্গি ও স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সদস্যদের সন্তানরা নিয়োগ পেয়েছে। আসল মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা নিয়োগ পাননি। বাবরের আমলে নিয়োগকৃত পুলিশ কর্মকর্তারা বর্তমানে সরকারের বিরম্নদ্ধে নানাভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এর সুস্পষ্ট উদাহরণ সিআইডিতে রিমান্ডে থাকাকালে চার এসআইয়ের মাধ্যমে তথ্য পাচারের ঘটনা বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান। এই বিতর্কিত নব্য আওয়ামী লীগার পুলিশ কর্মকর্তাদের সনাক্ত করে তাদেরকে অপসারণ না করলে পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নিতে পারে বলেও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। তারা জনগণের জানমাল নিরাপত্তা নিয়ে মাথা ঘামায় না, তারা শুধু দলের স্বার্থ রৰার কাজ নিয়ে ব্যস্ত বলে গোয়েন্দারা আগে শীর্ষ প্রশাসনকে জানিয়েছে। অর্থের লোভে আওয়ামী লীগের একশ্রেণীর নেতা, এমপি ও মন্ত্রী তাদের আশ্রয়-প্রশয় দিচ্ছেন বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উলেস্নখ করেন।

পুলিশের আইজি নূর মোহাম্মদ বলেন, বাবরের তথ্য পাচারে জড়িত সিআইডি’র চার এসআইকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পেশা বহির্ভূত কিংবা যে কোন অপরাধে জড়িত পুলিশ সদস্যদের কোন অবস্থায় ছাড় দেয়া হবে না। বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের সনাক্ত করার কার্যক্রম চলছে বলে আইজিপি জানান। উল্লেখ্য, ছয় দিনের রিমান্ড শেষে বাবরকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১০

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য যোগ করুন


ইউনিজয় ফোনেটিক প্রভাত English