রিমোট কন্ট্রোল ছিল অন্য জায়গায়’


সমকাল প্রতিবেদক
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে আজ বৃহস্পতিবার রিমান্ড শেষে ঢাকা থেকে হবিগঞ্জ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজাকুল হায়দার চৌধুরীকে বুধবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পাঠানো হয়েছে। লুৎফুজ্জামান বাবরকে হবিগঞ্জ ও রেজাকুল হায়দারকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করে পুনরায় রিমান্ডের আবেদন জানানো হতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদে বাবর জানিয়েছেন, কোনো ঘটনাতেই তার সংশ্লিষ্টতা ছিল না। সিদ্ধান্ত আসত ‘অন্য জায়গা’ থেকে।
সিআইডি সূত্র জানায়, কিবরিয়া হত্যা মামলায় বাবরকে রিমান্ডে আনা হলেও তাকে ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের মামলা ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার ব্যাপারেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগেও বাবরকে দু’দফায় সিআইডি রিমান্ডে এনেছিল। তখন বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছিলেন তিনি। তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তাকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তৃতীয় দফা রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদে বাবর ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেন। বাবর বলেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তিনি থাকলেও প্রত্যেক ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসত অন্য জায়গা থেকে। তার কিছু করণীয় ছিল না। কিছু অতিউৎসাহী
পুলিশ কর্মকর্তা নিজেদের হিরো বানানোর জন্য তাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত
করেছিল। বিষয়টি তিনি আগে থেকে আঁচ করতে পারেননি। যখন পেরেছিলেন তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও কিবরিয়া হত্যার ঘটনায় তিনি কিছুই আগাম জানতেন না।
সূত্র জানায়, রেজাকুল হায়দার চৌধুরী প্রথম দফায় রিমান্ডে থাকা অবস্থায় জানিয়েছিলেন, ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনা ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ব্যাপারে বাবরই তাকে বিভিন্ন সময় নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ কারণে রেজাকুল হায়দার ও বাবরকে মালিবাগ সিআইডি দফতরে মুখোমুখি করে বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ চলে। মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে রেজাকুল হায়দারের দেওয়া তথ্য বাবর অস্বীকার করতে পারেননি। অনেক প্রশ্নের ব্যাপারে বাবর ও রেজাকুল নীরব থেকেছেন।
তথ্যসূত্র: সমকাল, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০