আহত বকরের মৃত্যুতে ঢাবিতে ভাংচুর


মহিউদ্দিন মাহী ও এম এম জসিম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলে গত মঙ্গলবার রাতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ছাত্র আবু বকর সিদ্দিক মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার মারা যাওয়ার খবরে ক্যাম্পাসে আবারও সহিংস ঘটনা ঘটেছে। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা প্রক্টর কার্যালয় ও কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে।
ইসলামের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র নিহত আবু বকর সিদ্দিক স্যার এ এফ রহমান হলের ৪০৪ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় আবু বকরের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ি গ্রামে। বাবার নাম রোস্তম আলী। নিহতের রুমমেট মিঠু জানান, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ ৪০৪ নম্বর কক্ষের জানালা দিয়ে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়লে জানালার কাঁচ ভেঙ্গে যায়। তখন তারা ভীত হয়ে পড়ে বারান্দায় অবস্থান নেয়। তখন পুলিশ পঞ্চম তলায় কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়লে আবু বক্করের মাথায় আঘাত লাগে। এতে সে গুরুত্বর আহত হয়। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বকরের মৃত্যু সংবাদ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে সকাল ১১টায় তার বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এ সময় প্রক্টর কে এম সাইফুল ইসলামের কার্যালয় ভাংচুর করে। এরপর এফ রহমান হল থেকে নীলক্ষেতের দিক থেকে আসা আরেকটি মিছিল একত্রিত হয়ে উপাচার্যের বাসভবনের ফটকে ইট-পাথর ছুঁড়ে। পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা শুরু হয়। পুলিশ পাল্টা কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের একটি অংশ রোকেয়া হলের সামনে তিনটি গাড়ি ভাংচুর করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ সকাল ১০টায় বকরের মরদেহ দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। ঢাবি উপাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হবে বলেও তিনি জানান। অবশ্য নিহতের ভাই আববাস ও মামা আবুল কালাম আজাদ আক্ষেপ করে বলেছেন, এ ঘটনার বিচার চান না তারা। তারা জানান, আবু বকর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না থাকলেও রাজনীতির কারণে তাকে জীবন দিতে হয়েছে। ময়না তদন্তের পর বকরের লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এদিকে ক্যাম্পাসে অনাকাঙিখত ঘটনা রোধে বিপুল পরিমান পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আমাদের সময়, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১০