ফেনীতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এসআইসহ আহত ২


নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী
ফেনী সরকারি কলেজে গতকাল শনিবার দুপুরে ছাত্রলীগের জয়নাল হাজারী এবং নিজাম হাজারী গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষে হাজারীপন্থি কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি নিজাম পাটোয়ারী ও এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে হাজারীপন্থিরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, দুপুর দেড়টার সময় ফেনী সরকারি কলেজের মূল ভবনের সামনে হাজারীপন্থি ছাত্রলীগ সভাপতি নিজাম পাটোয়ারীর নেতৃত্বে একটি দল অবস্থান নেয়। সে সময় নিজাম হাজারীর সমর্থক একটি দল আরমান ও বিপ্লবের নেতৃত্বে মূল ভবনের সামনে গেলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
এক পর্যায়ে নিজাম হাজারীর গ্রুপ হাজারীপন্থি নিজাম পাটোয়ারীকে ক্ষুর ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। এরপর উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল ছোড়া শুরু হয়। সংঘর্ষ মারাত্মক হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পুলিশের ওপরও ইট নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে এসআই আজিম আহত হন।
আহত নিজাম পাটোয়ারী ও এসআই আজিমকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একই সময়ে ছাত্রলীগের একটি দল পাশেই ফেনী পৌর কাউন্সিলর সাখাওয়াত হোসেনের অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাংচুর করে এবং সাখাওয়াতকে নাজেহাল করে।
কাউন্সিলর সাখাওয়াত অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের আরমান, বিপ্লব, লিটন, মামুন, মিস্টার ও শহীদের নেতৃত্বে ১০-১২ জন তার কক্ষে ঢুকে টেলিভিশন ও আলমারিসহ বিভিন্ন জিনিস তছনছ এবং তাকে নাজেহাল করে।
বিকেলে ফেনী জিরো পয়েন্ট থেকে হাজারী সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। হাজারীপন্থিদের অভিযোগ, পুলিশ নিজাম হাজারী গ্রুপের পক্ষ নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশে হঠাৎ করেই সাবেক এমপি আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল হাজারী উপস্থিত হন এবং মাইকে বক্তৃতা করেন।
জয়নাল হাজারী প্রতিপক্ষকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। ওরা (বিরোধীরা) আমার বাড়িঘর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আগামীকাল থেকেই লড়ব। তাদের প্রতিহত করব। জয়নাল হাজারী আছে এবং থাকবে।’
তথ্যসূত্র: সমকাল, ২৭ ডিসেম্বর ২০০৯