ইউনিজয় English

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে চুয়েট বন্ধ

shomokal.jpg
সমকাল ডেস্ক
বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, অগি্নসংযোগ, ভাংচুর ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া নিয়ে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের কারণে ১৭ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। ফেনী শহরের পৌর চত্বরে এক দল যুবক জয়নাল হাজারীর সভামঞ্চ জ্বালিয়ে দিয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থলে পরপর বেশ কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ফেরার সময় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় বিজয় দিবস নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া নিয়ে মঙ্গলবার রাতে চুয়েটে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভাংচুর করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হল। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় গতকাল ১৭ দিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিকেল ৫টার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের হল ছাড়ারও নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে পুরকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শ্যামল কান্তি বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।’

সমকালের চুয়েট সংবাদদাতা জানান, বিজয় দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে ফুল দিতে সন্ধ্যা থেকেই প্রস্তুতি নিতে থাকে ছাত্রলীগের গনি-নূরুদ্দীন এবং শাহীন-সুজন পক্ষ। উভয় পক্ষ ক্যাম্পাসে সশস্ত্র অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি টের পেয়ে রাত ১২টার কিছুক্ষণ আগে এসে শিক্ষকরা দু’পক্ষের কর্মীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। শিক্ষকদের এ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে উভয় গ্রুপ রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার প্রস্তুতি নিলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। উত্তেজিত ছাত্রলীগ কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হলের কমপক্ষে বিশটি কক্ষ ভাংচুর করে।
ফেনী থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, শহরের পৌর চত্বরে গতকাল ভোররাতে জয়নাল হাজারীর সভামঞ্চ জ্বালিয়ে দিয়েছে এক দল যুবক। এ সময় ঘটনাস্থলে পরপর বেশ কয়েকটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। পরে দুপুরে আবার মঞ্চ তৈরি করে সমাবেশ করা হয়। সমাবেশে জয়নাল হাজারী তার বক্তব্যে এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ উচ্চস্বরে বাজানোর কারণে নিজ দলের অপর অংশের নেতাদের হাতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৪ নেতাকর্মী প্রহৃত হয়েছেন। সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের বাংলাবাজার এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। বন্দর উপজেলার সমরক্ষেত্রে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বোমা আতঙ্কের কারণে ২ ঘণ্টা পর শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে মোটরসাইকেল আরোহী ২৫-২৬ বছর বয়সী অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চের নিচে বোমা পোঁতা রয়েছে বলে খবর দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। রূপগঞ্জে বিজয় র‌্যালিতে উপজেলা ছাত্রলীগের দুই গ্রপের মধ্যে সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়।

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, বিজয় দিবসের তোরণ আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামে ডা. এম আমান উল্লাহ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিতদের সম্মানে নির্মিত তোরণটিতে রাতের আঁধারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, মুরাদনগরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবলীগ নেতাসহ দু’জন আহত হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে বিজয় দিবসের মিছিলে হামলা চালিয়ে নবীপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা জাকির হোসেনকে কুপিয়ে আহত করা হয়।

তথ্যসূত্র: সমকাল, ১৭ ডিসেম্বর ২০০৯

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য যোগ করুন


ইউনিজয় ফোনেটিক প্রভাত English