ইউনিজয় English

ছাত্রলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ

palo_logo.gif
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৭ দিনের জন্য বন্ধ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) গত মঙ্গলবার রাতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে বিজয় দিবসের কর্মসূচি পণ্ড হয়ে গেছে। সংঘর্ষের কারণে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি।
সংঘর্ষে প্রায় ৩০ জন আহত হন। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার থেকে ১৭ দিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা যায়, রাত ১২টা এক মিনিটে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া নিয়ে এ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল আয়োজিত প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ স্থগিত করে। সকালের আলোচনা সভা হয় সন্ধ্যায় শিক্ষক ক্লাবে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ছাত্রলীগের গনি-নূরুদ্দীন এবং শাহীন-সুজন পক্ষের কর্মীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। সংঘর্ষ ও শহীদ মিনারে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন শিক্ষক ছাত্রলীগের দুই পক্ষের কর্মীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শাহীন-সুজনের সমর্থক কর্মীরা গনি-নূরুদ্দীনের সমর্থক কর্মীদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়লে দুই পক্ষে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ পরে পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের কর্মীরা চারটি আবাসিক হলে পরস্পরের ২০টি কক্ষে ভাঙচুর চালান। সংঘর্ষে গুরুতর আহত মহীদুল হাসান (চতুর্থ বর্ষ), আরাফাত (দ্বিতীয় বর্ষ), লুত্ফর (দ্বিতীয় বর্ষ), সাইদ (দ্বিতীয় বর্ষ), সাজিদসহ (দ্বিতীয় বর্ষ) ১৫ জনকে রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত অন্যরা চুয়েট মেডিকেল সেন্টারে চিকিত্সা নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শ্যামল কান্তি বিশ্বাস গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ১৭ দিনের জন্য বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।’

গনি-নূরুদ্দীন পক্ষের নেতৃত্বে থাকা মো. আতাউল গনি ও মো. নূরুদ্দীন বলেন, ‘শাহীন-সুজনের সমর্থক কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালালে আমরা তা প্রতিহত করি। আসলে ওরা ছাত্রদলের মতাদর্শে বিশ্বাসী। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এরা ছাত্রলীগের ব্যানারে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করে। আমরা চাই না এ রকম সুবিধাবাদী কোনো পক্ষ ছাত্রলীগের হয়ে কাজ করুক। তাই আমরা তাদের ছাত্রলীগের ব্যানারে ফুল দিতে বাধা দিই।’

অবশ্য শাহীন-সুজন পক্ষের অন্যতম নেতা মহীদুল হাসান সুজন বলেন, ‘গনি-নূরুদ্দীন পক্ষের সন্ত্রাসীরা আমাকে মেরে ফেলার জন্য পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।’
প্রসঙ্গত, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান ছাত্রলীগের শাহীন-সুজন পক্ষের নেতৃত্বে থাকা এ এইচ এম লুত্ফর রহমান শাহীনের নাম ছিল।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, ১৭ ডিসেম্বর ২০০৯

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য যোগ করুন


ইউনিজয় ফোনেটিক প্রভাত English