ইউনিজয় English

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ, আহত ৩০

17-01-09.jpg
palo_logo.gif
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১০-১৫টি কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার ও হল দখলকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল পারভেজ দাবি করেন, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে নয়, ছাত্রদল সমর্থিত ছাত্রলীগের মূল ধারার রাজনীতি থেকে বিচ্যুত কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের মূল ধারার নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগের আদনান ভূঁইয়া অয়নের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় জমায়েত হয়। এ সময় আ ফ ম কামালউদ্দিন হলে অবস্থানরত ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সোহেল পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ নাসের জনির নেতৃত্বে ৬০-৭০ জন তাদের ধাওয়া করে। দুই পক্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ছয়-সাতটি গুলি বিনিময় হয়। পুলিশ বটতলা থেকে বঙ্গবন্ধু হলে যাওয়ার রাস্তা আটকে দেয় এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ সময় আজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা মওলানা ভাসানী হলের সামনে অবস্থান নেয়। কামালউদ্দিন হলের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ভাসানী হলের দিকে এগোলে ইটপাটকেল ও ছয়-সাতটি গুলিবিনিময় হয়। এ সময় প্রায় ৩০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে ছয়জন স্প্লিন্টার-বিদ্ধ হয়।

বেলা দুইটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামানের পদত্যাগ দাবি করে কামালউদ্দিন হলের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে। ভাসানী, বঙ্গবন্ধু ও কামালউদ্দিন হল থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বের হতে দিচ্ছে না ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

জানা গেছে, প্রায় এক বছর ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ ৩০-৪০ জন নেতা-কর্মী গত বুধবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে ফেরে। প্রথমে তারা কামাল উদ্দিন হল দখলে নেয়। তাদের সঙ্গে শহীদ সালাম বরকত হল, আল-বিরুনী মূল, সম্প্রসারিত ভবন ও মীর মশাররফ হোসেন হলের নেতা-কর্মীরা যোগ দেয়।

আদনান অভিযোগ করেন, ‘ছাত্রলীগ নামধারী বহিরাগত সন্ত্রাসী, চিহ্নিত ছিনতাইকারী, অছাত্ররা আমাদের ওপর হামলা চালালে আমরা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছি।’
সাভার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি সভা ডেকেছে। আলোচনা শেষে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বটতলায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছি। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী উপাচার্য, প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আলোচনা চলছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, ১৭ জানুয়ারি ২০০৯

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য যোগ করুন


ইউনিজয় ফোনেটিক প্রভাত English