বেরিয়ে আসছে ‘সৎ’ উপদেষ্টাদের অসৎ ‘কীর্তি’ অনেকের বিরুদ্ধেই দলিল-দস্তাবেজ এসেছে: মহীউদ্দিন খান
শামছুদ্দীন আহমেদ:
ড. ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং এর আগের ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের অনেকের বিরুদ্ধেই উত্থাপিত হচ্ছে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ। ফখরুদ্দীন সরকারের দুই প্রভাবশালী উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ও মেজর জেনারেল (অব.) এমএ মতিনের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে ইতোমধ্যে পৃথক দুটি সংসদীয় উপ-কমিটি গঠিত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে সাবেক উপদেষ্টা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পদত্যাগী চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হাসান মশহুদ চৌধূরীর বিরুদ্ধেও।
জানা গেছে, অনোয়ারুল ইকবাল, বিচারপতি ফজলুল হক, ডা. সুফিয়া রহমানসহ সাবেক আরো কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে অভিযোগ জমা পড়েছে। সেগুলো বর্তমানে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে।
সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর গতকাল তার বনানীর বাড়িতে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সাবেক উপদেষ্টাদের অনেকের বিরুদ্ধেই সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটিতে নানামুখী অনিয়মের দলিল-দস্তাবেজ জমা পড়েছে। এমনও অভিযোগ রয়েছে যে- কারো কারো বিদেশে বাড়ি রয়েছে। তারা সেখানে করও দেন। সময়মতো জনগণের সামনে এগুলো বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। যারা (উপদেষ্টারা) নিজেদের সৎ দাবি করতেন, রাজনীতিকদের বলতেন দুর্নীতিবাজ- এখন তাদেরই একে একে আসল সুরত বেরিয়ে আসছে। সততার মোড়কে যারা নিজেদের আখের গুছিয়েছেন, চুরি-ডাকাতি করেছেন, স্যুট-প্যান্ট-টাই পরিহিত মুখোশধারী এই ভদ্র লোকদের কালো টাকার তথ্য এবং কালো চেহারা জনগণের সামনের উন্মোচিত হওয়া প্রয়োজন।
তার মতে, সাবেক উপদেষ্টাদের প্রত্যেকের, এমনকি তাদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদেরও সম্পদের হিসাব নেয়া উচিত। পাশাপাশি জরুরি অবস্থার দুই বছরে ঢাকা ও চট্টগ্রামে যত জমি রেজিস্ট্রি হয়েছে, যত শেয়ার লেনদেন হয়েছে এর তদন্ত হওয়া দরকার। তারা কোটি কোটি টাকা তছনছ করেছে। যৌথবাহিনীর সদস্য হিসেবে যারা বিভিন্নজনের কাছ থেকে ঘুষ ও জোর করে চাঁদা নিয়েছেন তাদেরও সম্পদের হিসাব নিতে হবে। যারা জনগণকে ধোঁকা দিয়েছেন, মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছেন এবং চৌর্যযবৃত্তির সঙ্গে সম্পৃক্তদের সম্পদের হিসাব সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সবাইকে প্রচলিত আইনে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। যেন ভবিষ্যতে আর এই ধরনের ঘটনা না ঘটে। এর মধ্য দিয়ে আরেকটি বিষয় প্রমাণিত হবে- কেউই আইনের ঊধ্র্বে নয়।
ড. মহীউদ্দিন বলেন, ব্যারিস্টার মইনুল, ফখরুদ্দীন, হাসান মশহূদ ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা যা খুশি তা করেছেন। তাদের সম্পদের হিসাব নেয়া দরকার। ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় বিদায়ী সেনাপ্রধানের (মইন উ আহমেদ) ত্রাণ গ্রহণ করা নিয়ে আব্দুল জলিল সংসদে যে প্রশ্ন তুলেছেন তা যৌক্তিক। আমাদের কাছে তথ্য আছে, গল&ফ ক্লাবের উন্নয়নে সাবেক সেনাপ্রধান নয় কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। অনুদান চেয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠিও দিয়েছিলেন। এটা বেআইনি ও গর্হিত কাজ। এসব করে তিনি দেশের খ্যাতিমান সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম নষ্টের অপচেষ্টা করেছেন। এখানে আমি শুধু একটি কথাই বলবো- অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আইনের সামনে নিয়ে আসা উচিত।
এদিকে, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা কয়েকদিন আগে এই প্রতিবেদককে বলেছেন, ড. ফখরুদ্দীন, মইন উ আহমেদ, হাসান মশহুদ, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ও জেনারেল মতিনসহ ১/১১’র সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার ব্যাংক হিসাব জব্দ করা উচিত। তারা যেন পালাতে না পারে সেজন্য তাদের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও দাবি জানান তিনি। সম্পাদনা: জুলফিকার রাসেল
তথ্যসূত্র: http://www.amadershomoy.com/content/2009/06/27/news0091.htm
মন্তব্য(0)



