

যুগান্তর রিপোর্ট
২৪ লাখ নয় দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা বিচারপতি ফজলুল হক প্রতারক চক্রকে ২৯ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। শুধু বিচারপতি ফজলুল হক নন দুদকের মামলা থেকে রেহাই পেতে আরও বেশ কয়েকজন রাঘববোয়ালের কাছ থেকে প্রতারক চক্রটি কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা বলেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাদের কাছ থেকেই বিভিন্ন সময়ে দুদকের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তারা জানতে পারত। অনেক সময় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণও তারা সংগ্রহ করত এসব কর্মকর্তার মাধ্যমে। আর ওই তথ্য-প্রমাণ দিয়েই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আকৃষ্ট করত। নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য করেত তুলত। গ্রেফতারকৃত তিন প্রতারক অমলেন্দু দাস, গোলাম আম্বিয়া ও নূরুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। শনিবার দুপুরে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে তাদের মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করা হয়।
মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার কথা বলে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা বিচারপতি ফজলুল হকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় শুক্রবার রাতেই ধানমণ্ডি থানায় মামলা হয়েছে। বিচারপতি ফজলুল হকের ছেলে আফজাল হোসেন রাজের বন্ধু খন্দকার তৌফিক আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর-৭২। অভিযোগে তিনি বলেন, ২৪ লাখ নয় তার মাধ্যমে প্রতারক চক্রকে মোট ২৯ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সাবেক উপদেষ্টা ফজলুল হকের ছেলে আফজাল হোসেন রাজের সঙ্গে তার এবং আবদুল গফফার টিটুর পারিবারিক সম্পর্ক। তারা মাঝে মধ্যেই রাজের বাসায় যেতেন। সাবেক উপদেষ্টা ফজলুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে মামলা দায়েরের পর পরিবারটি হতাশায় ডুবে যায়। এ সময় রাজ তাদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন। মামলার বাদী তৌফিক আলম মামলায় বলেন, তাদের বন্ধু আবদুল গফফার টিটুর সঙ্গে ৯৯ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ফাউন্ডেশন ফর এডভান্স স্টাডিজ এন্ড রিসার্চ নামের একটি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। মাঝে মধ্যে সে ওই প্রতিষ্ঠানে যেত। এ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান অমলেন্দু দাস দুদকের দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় আসামিদের রক্ষা করার কাজ করে থাকে বলে আবদুল গফফার টিটুর মাধ্যমে রাজ এবং তিনি জানতে পারেন। পরে তারা ওই প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করেন।
বিস্তারিত »