
আরেফিন সহিদ, বাউফল থেকে
জোট সরকারের পাঁচ বছরে বাউফলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ এবং বদলি বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বিএনপি দলীয় সাবেক সাংসদ শহিদুল আলম তালুকদার। সবেক এই এমপি শূন্য থেকে কোটিপতি হওয়ার পছনে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য অন্যতম একটি জাদুর কাঠি ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জোষ্টতা লংঘন থেকে শুরু করে জুনিয়র প্রভাষক ও শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক, এমনকি অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ নিয়েছেন তিনি। ফলে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান সাবেক এমপির অবাধ্য হয়েছেন তাদের হতে হয়েছে লাঞ্ছিত কিংবা মিথ্যা মামলার আসামি। জানা গেছে, বাউফলের ১৪টি ইউনিয়নের ১০টি কলেজ, ৫৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬১টি সিনিয়র দাখিল মাদ্রাসা এবং ১২২টি সরকারি ও ২২টি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ২০০১ সালে শহিদুল আলম তালুকদার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ক্ষমতার প্রভাব ঘাটিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে ৮টি কলেজ ও ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতির পদ গ্রহণ করেন। এগুলো হল- বাউফল ডিগ্রি কলেজ, কেশবপুর কলেজ, কালিশুরি কলেজ, বগা ডা. ইয়াকুব শরীফ কলেজ, নওমালা আঃ রশিদ খান কলেজ, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ, নুরাইপুর কলেজ এবং বাউফল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সভাপতির পদ গ্রহণ করেই সবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে প্রতিটি কলেজ ও বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শতাধিক অধক্ষ্য, প্রভাষক, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আতাঁত করে বিভিন্ন মাদ্রাসায় তিন শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেন। প্রতিটি নিয়োগের ক্ষেত্রে এক থেকে তিন লাখ টাকা ডোনেশন নেয়ার অভিযোগ রয়েছে শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষানুরাগী সদস্য নির্বাচনে ডিও লেটার প্রদান করেও বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষক-শিক্ষিকা বদলির ব্যাপারে তাকে দিতে হয়েছে মোটা অংকের অর্থ। রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রেও মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
বিস্তারিত »