আরো ৫০ রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও আমলা খালাস পেয়ে যাচ্ছেন।দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের সাজা
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে সাবেক এটর্নি জেনারেল ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক ভোরের কাগজকে বলেন, ২০০৭ সালের ১৮ ফেব্র”য়ারি দুদকের সচিব সম্পদের হিসাব চেয়ে আমার মক্কেলসহ ৫০ জনকে নোটিশ দিয়েছিলেন। কিন্তু দুদক আইন অনুযায়ী এ নোটিশ দেয়ার এখতিয়ার আছে একমাত্র কমিশনের। ঐ বছরের ৭ ফেব্র”য়ারি থেকে ২৫ ফেব্র”য়ারি পর্যন্ত কোনো কমিশন ছিল না। এ সময় পর্যন্ত সচিব কমিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন, যা আইনগতভাবে সচিব করতে পারেন না। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুদকের সচিবের কাজের বৈধতা দেয়ার জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঐ অধ্যাদেশটি বাতিল করেছে। এর ফলে সচিব সে সময় যেসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন তা অবৈধ হয়ে গেছে। তাই মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে দুদক সচিব যে নোটিশ দিয়েছিলেন তা ছিল অবৈধ। আর এ অবৈধ নোটিশের ভিত্তিতে দায়ের করা মামলাটিও ছিল অবৈধ। যে মামলার অনুমোদন ও দায়ের অবৈধ ছিল সে মামলার সাজাও অবৈধ। এ যুক্তিতে হাইকোর্ট আমাদের আপিল মঞ্জুর করেছেন। একই যুক্তিতে সচিব যাদেরকে নোটিশ দিয়েছিলেন তারাও হাইকোর্ট থেকে প্রতিকার পেয়ে যাবেন।
এ ধরনের মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে দুদকের আইনজীবী এডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, অবৈধ সম্পত্তি অর্জন ও সম্পদের হিসাব বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা এ ধরনের ১০০টির মতো মামলায় বিশেষ জজ আদালত সাজা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ জন ঐ সাজার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উ”চ আদালতে আপিল দায়ের করেছেন। এর মধ্যে দুদক সচিব নোটিশ দিয়েছিল ৫০ জনকে। এদের বেশির ভাগই সাজা পেয়েছেন এবং হাইকোর্টে এসেছেন। যেহেতু সচিবের নোটিশ পাঠানোর যুক্তিটিকে অধিক গুর”ত্ব সহকারে গ্রহণ করে হাইকোর্ট ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সাজা বাতিল করেছে, সেহেতু একই যুক্তিতে অন্যরাও হাইকোর্ট থেকে আপাতত প্রতিকার পেয়ে যাবেন। কিন্তু হাইকোর্টের রায়ের বির”দ্ধে আপিল করার যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। আমরা আপিল করার প্রস্তুতি নি”িছ। হাইকোর্টের রায়ের সার্টিফাইড কপি হাতে পেলেই আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করবো।
২০০৭ সালের ১৮ ফেব্র”য়ারি দুদক সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন ৫০ জন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং ব্যবসায়ী ও আমালদেরকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠায়। সম্পদের হিসাব না দিলে অথবা হিসাব বিবরণীতে তথ্য গোপন করলে তাদের বির”দ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে নোটিশপ্রাপ্ত ৫০ জনই সম্পদের হিসাব বিবরণীতে তথ্য গোপন করেছেন অথবা হিসাব দেয়া থেকে বিরত থেকেছেনÑ এমন অভিযোগে তাদের অধিকাংশের বির”দ্ধে দুদক বাদী হয়ে মামলা করে। পরে বিচার শেষে বিশেষ জজ আদালত দুদক আইন অনুযায়ী অধিকাংশ নোটিশপ্রাপ্তকে সাজা দেন।
সচিবের দেয়া নোটিশের প্রেক্ষিতে দায়ের করা মামলায় যারা সাজা পেয়েছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মন্ত্রী মোঃ নাসিম, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, শামীম ওসমান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, ডা. এইচ বি এম ইকবাল, জয়নাল হাজারী, এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা, হাজি মকবুল, পংকজ দেবনাথ ও মহিউদ্দিন আহমেদ।
বিএনপির যেসব নেতা সচিবের দেয়া নোটিশের প্রেক্ষিতে সাজা পেয়েছেন তারা হলেনÑ আলী আজগর লবী, আমান উল্লাহ আমান, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী আলম, আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া, চারদলীয় জোটের সাবেক এমপি ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মুফতি শহীদুল ইসলাম, এস রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ইঞ্জিনিয়ার মনজুর”ল আহসান মুন্সি, আব্দুল কাইয়ূম, আরিফুল হক চৌধুরী, এম নাছের রহমান বাবু, সাবেক সচিব আ ন হ আখতার হোসেন, সিবিএ নেতা বিএম বাকির হোসেন ও ফিরোজ মিয়া এবং জামাতের মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী।
এরা সবাই অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের হিসাব বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত। এসব সাজাপ্রাপ্তরা ছাড়া সচিবের নোটিশের প্রেক্ষিতে অন্য যাদের বির”দ্ধে মামলা দায়ের করা হয় হাইকোর্টের আদেশে তাদের মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। বিশেষ জজ আদালতের দেয়া সাজার কারণে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য হয়েছেন অথবা কারাভোগ করতে হয়েছে অনেক ভিআইপি রাজনীতিককে। ১/১১ এর পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতি দমনের নামে যে অভিযান শুর” করেছিলেন এবং সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত করে যে কয়েকটি তালিকা প্রকাশ করেছিলেন এ ৫০ জন প্রথম তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
তথ্যসূত্র: http://www.bhorerkagoj.net/content/2009/07/16/news0358.php
মন্তব্য(0)

