ইউনিজয় English

'ঋণ খেলাপি' ক্যাটাগরীতে অন্তর্ভুক্ত নিউজসমূহ

মেয়র পদে তিন প্রার্থীর ঋণ ২৭৭ কোটি টাকা

shomokal.jpg
কাজী আবুল মনসুর/রুবেল খান, চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টি প্রার্থীর ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ২৭৭ কোটি টাকারও বেশি। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুর ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১৬৩ কোটি, জাতীয় পার্টি প্রার্থী সোলায়মান শেঠের ব্যাংক ঋণ ৯৬ কোটি ১০ লাখ এবং জামায়াতের আফসার উদ্দিনের ব্যাংক ঋণ ১৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এসব প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টি প্রার্থী সোলায়মান শেঠের বিশাল পরিমাণ ঋণ থাকলেও মাসিক আয় দেখিয়েছেন মাত্র ২০ হাজার টাকা! আওয়ামী লীগের এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কোনো ব্যাংক ঋণ নেই। বিস্তারিত »

‘দুষ্ট’ ঋণখেলাপিদের ধরতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে


দেলোয়ার হুসেন : দুষ্ট ঋণখেলাপিদের ধরতে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকারব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পর যারা পরিশোধ না করে ইচ্ছা করে বছরের পর বছর খেলাপি হয়ে আছেন, তাদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে তারা কোনোক্রমেই যাতে আইনের ফাঁক গলে বের হয়ে যেতে না পারে সে জন্য প্রচলিত আইনের বিধিবিধানগুলো আরও কঠোর করা হবেএর মাধ্যমে যেসব ঋণখেলাপি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কারখানা না করে ঋণ অন্য খাতে সরিয়ে নিয়েছেন, বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন, পাঁচতারা হোটেলে সকাল-বিকেল নাশতা করছেন, বিলাসবহুল গাড়িতে চড়ে বেড়াচ্ছেন কিন্তু ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করছেন না তাদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবেএসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থ সচিবকে আলাদা নির্দেশনা দিয়েছেন
পৃথক চিঠিতে অর্থমন্ত্রী এসব কথা উল্লেখ করে এ নির্দেশনা দেন
সূত্র জানায়, ঋণখেলাপিদের এসব বিষয় নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অর্থ সচিব ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেনএ লক্ষ্যে অচিরেই সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি বৈঠক আহ্বান করা হবে
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান
অর্থমন্ত্রী তার নির্দেশনায় আরও বলেছেন, ব্যাংকের কারণেও অনেক ঋণখেলাপি হয়সেগুলো কীভাবে পরিহার করা যায়, খেলাপি ঋণ সৃষ্টির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কীভাবে শাস্তি দেওয়া যায়, তা বিবেচনায় আনতে হবেতিনি বলেছেন, রুগ্ণ শিল্পের ঘুরে দাঁড়াতে হলে তাদের কিছু ঋণ সুবিধা দিতে হবেএজন্য নীতি খুঁজতে হবেঋণখেলাপিদের সম্পর্কে প্রতিবেদন হালনাগাদ রাখতে হবে
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছেএ বিষয়ে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছেমন্ত্রণালয় থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতামত চাওয়া হয়েছেএতে খেলাপি ঋণের জামিনদারদের ঋণখেলাপি হিসেবে শনাক্ত করা, এনজিও, সমবায় সমিতি, ট্রাস্ট, সোসাইটিজ আইনে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ও এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রকদের খেলাপি ঋণের সংজ্ঞায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে
সূত্র জানায়, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ১ কোটি টাকা ও তার বেশি অঙ্কের ঋণখেলাপিদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছেগত ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই তালিকাটি সম্প্রতি প্রকাশ করার পর ব্যবসায়ীদের একটি অংশের চাপের মুখে পড়েছে সরকারতাদের দাবি, সংসদের প্রকাশিত তালিকায় তাদের ঋণখেলাপি হিসেবে দেখানো হলেও এখন আর তারা ঋণখেলাপি ননএ তালিকা প্রকাশের অনেক আগেই তারা খেলাপি ঋণ নবায়ন করে হালনাগাদ করেছেনএর মধ্যে অন্যতম শিল্প গ্রুপ হচ্ছে বেক্সিমকো
বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ সাড়ে ২৩ হাজার কোটি টাকাএর মধ্যে ১ কোটি কিংবা তার বেশি অঙ্কের খেলাপিদের কাছে রয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকামোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশ রয়েছে এদের হাতেএদের মধ্যে বেশিরভাগই ইচ্ছাকৃত খেলাপি
বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা ও এর বেশি অঙ্কের এবং ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা থেকে তার বেশি অঙ্কের ঋণের স্থিতির তথ্য সংরক্ষণ করা হয়এর মধ্যে যারা খেলাপি এবং ঋণের জামিনদারদের তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়এর চেয়ে কম টাকার খেলাপিদের নাম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো সংরক্ষণ করেপ্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তালিকা প্রতি তিন মাস পরপর হালনাগাদ করেগত ৩০ জুন পর্যন্ত ঋণখেলাপিদের তালিকা এখন হালনাগাদ করা হচ্ছেআগামী ১৫ আগস্টের মধ্যেই এ তালিকা হালনাগাদের কাজ শেষ হবেবর্তমান কাঠামোতে এর চেয়ে দ্রুততম সময় এ তালিকা হালনাগাদ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকতবে সিআইবিকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছেএটি হয়ে গেলে তখন ঋণখেলাপিদের তালিকা আরও কম সময়ে হালনাগাদ করা সম্ভব হবে
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক ড. জায়েদ বখত সমকালকে বলেন, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলন সৃষ্টি করতে হবেএর মাধ্যমে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা সম্ভব হলে রাজনৈতিক সরকারও তাদের ওপর চাপ দিতে পারবেএছাড়া শুধু রাজনৈতিক সরকারের পক্ষে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে নাকেননা সরকারের অনেক বড় বড় নেতা হয়তো ঋণখেলাপি হয়ে রয়েছেন
সূত্র জানায়, বর্তমানে ঋণখেলাপিদের অনেক ধরন রয়েছেঅনেকেই রয়েছেন ইচ্ছাকৃত খেলাপিবছরের পর বছর তারা ঋণখেলাপির তালিকায় রয়েছেনবিশেষ করে সরকারি ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয় নাঋণ শোধ না করার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছেঅথচ শীর্ষ ঋণখেলাপিরা ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনে প্রতিনিধিত্ব করছেনতারা ঋণ আদায়ে ব্যাংকের দায়ের করা মামলার বিপরীতে উল্টো ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করে ঋণ আদায় কার্যক্রম থামিয়ে রেখেছেনএর সঙ্গে ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তাও জড়িত ঋণখেলাপি ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশের কারণে খেলাপি ঋণ আদায় হচ্ছে না ফলে বেড়ে যাচ্ছে ব্যাংকিং খাতে আদায় অযোগ্য খেলাপি ঋণের পরিমাণএতে খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রাখতে গিয়ে ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছেএতে একদিকে আমানতকারীরা সঞ্চয়ের বিপরীতে কম সুদ পাচ্ছে, অন্যদিকে নতুন উদ্যোক্তাদের বেশি সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে
ব্যাংকগুলো বলতে গেলে শীর্ষ খেলাপিদের কাছ থেকে ঋণ আদায় করতেই পারছে না মামলা ও পাল্টামামলার কারণে খেলাপি ঋণ আদায় আটকে রয়েছেগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো শীর্ষ খেলাপিদের কাছ থেকে খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হলেও কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলো বেশ সাফল্যদেখিয়েছে
বৈরী পরিস্থিতির কারণে যারা ঋণখেলাপি হয়েছেন তাদের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হবেইতিমধ্যে পরিস্থিতির কারণে যেসব শিল্প রুগ্ণ হয়েছে তাদের পাদনে নিয়ে যেতে সরকার বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছেইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, রুগ্ণ শিল্পের কারণে যারা ঋণখেলাপি হয়েছেন তাদের বিষয়গুলো তারা সহজভাবে দেখবেনতাদের কাছ থেকে শুধু মূল টাকা আদায় করে সুদ মওকুফ করা যায় কি-না সে বিষয়টি ভেবে দেখা হচ্ছে
এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি (এফবিসিসিআই) সভাপতি আনিসুল হক বলেন, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে যারা ঋণখেলাপি হয়েছেন তাদের বিষয়টি যেন সরকার বিশেষভাবে বিবেচনা করেআমরা ইতিমধ্যে সরকারকে সে অনুরোধ করেছিআমরাও চাই খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি থেকে ব্যাংকগুলো বের হয়ে আসুকতখন তাদের তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমে যাবেএতে ঋণের সুদের হারও কমবে
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, ব্যাংক কর্মকর্তারা ঋণ বিতরণ করার সময়ে ভালো প্রকল্পে বা ভালো উদ্যোক্তাদের ঋণ দিলে এত বেশি পরিমাণে খেলাপি ঋণের সৃষ্টি হতো নাখেলাপি ঋণের সংস্কৃতি রোধে ব্যাংক কর্মকর্তাদেরও সতর্ক হতে হবেতাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবেদোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নিতে হবেএক্ষেত্রে সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক পরিদর্শনের সময় ঋণ পরিস্থিতি দেখে থাকেঋণের মান খারাপ হলে তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেকিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ঋণের অনেক শর্ত পূরণ না করা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা অনেককে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করেননি

 

তথ্যসূত্র: http://www.samakal.com.bd/details.php?news=13&action=main&option=single&news_id=4066&pub_no=46,

 

ঋণখেলাপি দুই হাজার, ব্যাংকের পাওনা ১৫ হাজার কোটি টাকা

সংসদে তালিকা: শীর্ষ ১০ খেলাপি
১. বেক্সিমকো টেক্সটাইলস লি. ২. পদ্মা টেক্সটাইল মিলস লি. ৩. বিজেএমসি ৪. বিটিএমসি ৫. এসডিএস ইন্টারন্যাশনাল লি. ৬. শাইনপুকুর হোল্ডিংস লি. ৭. মাগুরা পেপার মিলস লি. ৮. আদমজী জুট মিলস লি. ৯. ফেয়ার এক্সপো ওয়েভিং মিলস ১০. বেক্সিমকো নিটিং লি.
বিশেষ প্রতিনিধি
দেশে এক কোটি বা এর চেয়ে বেশি অঙ্কের ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দুই হাজার ১৯৬। এই খেলাপি-দের কাছে ব্যাংকগুলোর মোট পাওনা ১৫ হাজার ৪৫১ কোটি দুই লাখ টাকা।
তালিকার শীর্ষে বেক্সিমকো টেক্স-টাইলস। শীর্ষ দশের মধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপের আরও তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আরও আছে সরকারি দুটি করপোরেশন এবং বন্ধ আদমজী পাটকল।
জাতীয় সংসদে গতকাল রোববার এই তালিকা উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সংরক্ষিত আসনের নারী সাংসদ নূর আফরোজ আলীর প্রশ্নের জবাবে লিখিত আকারে এ উত্তর দেওয়া হয়। তবে সময়ের অভাবে প্রশ্নটি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা তালিকা জাতীয় সংসদে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সালের মার্চ শেষে দেশে ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৫৮৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা; যা সেই সময় পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা দুই লাখ ১২ হাজার ৪৪ কোটি টাকার ১১ দশমিক ১২ শতাংশ।
তবে এই হিসাবের বাইরে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ অবলোপন (রাইট অফ) করা হয়েছে। এর বিপরীতে ১০০ ভাগ নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) ব্যাংক সংরক্ষণ করে বলে মোট খেলাপি ঋণের হিসাবে তা যোগ করা হয় না। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোতে (সিআইবি) ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে খেলাপি ঋণ যুক্ত থাকার কথা। খেলাপির সংজ্ঞা অনুসারে, কোনো ঋণ পরিশোধের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে ছয় মাস অতিক্রান্ত হলে সেই ঋণটি খেলাপিতে পরিণত হয়।
জাতীয় সংসদে দেওয়া তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে পোশাক ও বস্ত্র খাতের নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই বছরের পর বছর ধরে খেলাপি হয়ে রয়েছে। তালিকায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠান যেমন রয়েছে, তেমনি অখ্যাত ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এমনকি এই তালিকায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নামও রয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় ২১৬তম খেলাপি। মোট খেলাপির পরিমাণ ১৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
বেক্সিমকো গ্রুপ ছাড়াও তালিকায় আবুল খায়ের লিটু, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী, বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।
তালিকার শীর্ষ খেলাপি বেক্সিমকো টেক্সটাইলসের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩৫৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপের আরেকটি প্রতিষ্ঠান পদ্মা টেক্সটাইলের খেলাপি ঋণ ২৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ষষ্ঠ স্থানেও আছে বেক্সিমকো গ্রুপের শাইনপুকুর হোল্ডিংস। শাইনপুকুরের কাছে ব্যাংকের পাওনা ১৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। শীর্ষ দশের সর্বশেষ কোম্পানি বেক্সিমকো নিটিংয়ের মোট খেলাপি ঋণ ৮১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর বাইরে ২১তম স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ইঞ্জিনিয়ারিং। তাদের খেলাপি ঋণ ৫৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ৫৫তম খেলাপি বেক্সিমকো ডেনিমস। খেলাপির পরিমাণ ৩৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। তালিকায় ৩২৯ নম্বরে থাকা বেক্সিমকো কম্পিউটার্সের মোট খেলাপি ঋণ ১১ কোটি দুই লাখ টাকা এবং ৩৬৮তম খেলাপি বেক্সিমকো ফ্যাশনস লিমিটেডের খেলাপি ঋণ নয় কোটি ৭৬ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে বেক্সিমকো গ্রুপের আট প্রতিষ্ঠানের মোট খেলাপি ঋণ ৯৮১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যতম মালিক সালমান এফ রহমান। তিনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা।
তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত দুটি করপোরেশন। এর মধ্যে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) খেলাপি ঋণ ২৬৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ বস্ত্রকল করপোরেশনের (বিটিএমসি) খেলাপি ঋণ ১৭৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। বন্ধ হয়ে গেলেও ঋণখেলাপির তালিকায় এখনো রয়েছে আদমজী পাটকল। ব্যাংকের পাওনা ১২৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
পঞ্চম শীর্ষ ঋণখেলাপি বেসরকারি খাতের এসডিএস ইন্টারন্যাশনালের মোট খেলাপি ঋণ ১৩৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। মাগুরা পেপার মিলস দেশের সপ্তম শীর্ষ ঋণখেলাপি, ব্যাংকের পাওনা ১২৬ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। নবম স্থানে থাকা ফেয়ার এক্সপো উইভিং মিলসের খেলাপি ঋণ ৯৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
তালিকায় একাদশ স্থানে রয়েছে প্রয়াত মাওলানা এম এ মান্নানের রিভার সাইড লেদার ও ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৮ কোটি ছয় লাখ টাকা। দ্বাদশ স্থানের আর্চ লিমিটেডের খেলাপি ঋণ ৭৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর পরই আছে বাংলাদেশ অটোরিকশা চালক সমবায় ফেডারেশন। ১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় এই সমিতি গঠন করে ঋণ দেওয়া হয়েছিল। বিতরণ করা ঋণের মধ্যে খেলাপি হয়ে আছে ৭৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠান শামসুল আল আমিন কটন মিলসের কাছে পাওনা ৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এই গ্রুপের আরেকটি প্রতিষ্ঠান জাহানারা আল আমিন স্পিনিং মিল ৮০তম শীর্ষ খেলাপি। এর কাছে পাওনা ৩৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান খুলনা নিউজপ্রিন্টের খেলাপি ঋণ ৭১ কোটি ১১ লাখ টাকা। সরকারি আরেক প্রতিষ্ঠান কওমী পাটকলের খেলাপি ঋণ ৬৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ১৭তম খেলাপি আবুল খায়ের লিটুর দেশ বেভারেজ কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির মোট খেলাপি ঋণ ৬১ কোটি ১৭ লাখ। এর পরের তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো যথাক্রমে সামিনা ট্যানারি (৬০ কোটি ৯৮ লাখ), স্টার সিমেন্ট (৬০ কোটি ৮৯ লাখ) এবং বিক্রমপুর পটেটো ফ্লেকস (৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা)।
মোহাম্মদ আলীর দেশমা সুজ (৫৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা) ২২তম শীর্ষ খেলাপি। একই ব্যক্তির এবি ভেজিটেবল অয়েলের অবস্থান ৪৫তম, খেলাপির পরিমাণ ৪৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। আবার দেশ বেভারেজ ছাড়াও আবুল খায়ের লিটুর আরেক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনওয়াইড কমিউনিকেশন তালিকায় ১০৭তম স্থানে রয়েছে। খেলাপির পরিমাণ ২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের ওয়ান স্পিনিং মিল ২৪তম খেলাপি, পাওনা ঋণের পরিমাণ ৫৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ৭৫তম খেলাপি ওয়ান এন্টারটেইনমেন্টের কাছে ব্যাংকের পাওনা ৩৫ কোটি ২২ লাখ টাকা, আবার ১৫৭তম স্থানে থাকা ওয়ান ডেনিমের খেলাপি ঋণ ২০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বহুল আলোচিত বিদ্যুতের খঁুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান খাম্বা লিমিটেডের মোট খেলাপি ঋণ ১৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
খালেদা জিয়ার ভাই সাইদ এস্কান্দার ও ছেলে তারেক রহমানের প্রতিষ্ঠান ড্যান্ডি ডাইং ৫৪তম খেলাপি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকের পাওনা ৪০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। রেকর্ড পরিমাণ কম সময়ের মধ্যে সুদ মওকুফ করার পরও ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়ে গেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা করা আরেক ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম ফারুকের ওয়েস্টমন্ট পাওয়ার ৯৬তম খেলাপি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির কাছে পাওনা ৩০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানও খেলাপির তালিকায়: বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানও খেলাপির তালিকায় রয়েছে। যেমন, ৫৯তম অবস্থানে থাকা আমার দেশ পাবলিকেশন্সের মোট খেলাপি ঋণ ৩৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। গত বিএনপি সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান এ প্রতিষ্ঠানের বর্তমান চেয়ারম্যান। ডায়লগ পাবলিকেশন্স ৬৮তম খেলাপি, মোট খেলাপি ঋণ ৩৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। বৈশাখী মিডিয়া ৯১তম খেলাপি, ব্যাংকের পাওনা ৩১ কোটি ২১ লাখ টাকা। বন্ধ সিএসবি বা বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফোকাস মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের অবস্থান ১৬১তম, খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ১৮৯তম খেলাপি জনকণ্ঠ-এর কাছে ব্যাংকের পাওনা ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। ২৯২তম খেলাপি একুশে টেলিভিশনের মোট খেলাপি ঋণ ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
বিএনপির সাবেক সাংসদ মেজর (অব.) আখতারুজ্বামানের গচিহাটা একুয়াকালচার ফার্মস ১৯৩তম খেলাপি এবং মোট পাওনা ১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সোহাগপুর টেক্সটাইল ১১৯তম খেলাপি এবং ঋণের পরিমাণ ২৫ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। এর স্বত্বাধিকারী বিটিএমএর সভাপতি আবদুল হাই সরকার। ২৩৮তম খেলাপি এয়ার পারাবাতের খেলাপি ঋণ ১৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। হায়দারুজ্বামানের বেস্ট এভিয়েশনের খেলাপি ঋণ ছয় কোটি ৯৬ লাখ টাকা। কে জেড ইসলামের নির্মাণ ইন্টারন্যাশনাল ২৯তম খেলাপি, ব্যাংকের পাওনা ৫১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। তবে এ ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে বলে তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। বিএনপির সাবেক সাংসদ জি এম সিরাজের ক্যাব এক্সপ্রেস ৪০৪তম খেলাপি, ঋণের পরিমাণ আট কোটি ৭৮ লাখ টাকা। জাহাজ তৈরির কোম্পানি আনন্দ শিপইয়ার্ড ১১৮তম ঋণখেলাপি, পাওনার পরিমাণ ২৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
তালিকার শেষ দিকে রয়েছে বসুন্ধরা, ফায়নাজ অ্যাপার্টমেন্ট (পঞ্চম তলা), ৩৭/১ পুরানা পল্টনের নাম। ১৫২৫ নম্বরে থাকা এই হিসাবের বিপরীতে ব্যাংকের পাওনা এক কোটি ৭০ লাখ টাকা।

তথ্যসূত্র: http://www.prothom-alo.com/mcat.news.details.php?nid=MTYzODEw&mid=MQ==

ঋণখেলাপি ২১৯৬ : শীর্ষে বেক্সিমকো

সংসদ রিপোর্টার
চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত এক কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপির সংখ্যা ২ হাজার ১৯৬ জন। এদের বিপরীতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ১৫ হাজার ৪৫১ কোটি ২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণখেলাপি বেক্সিমকো টেক্সটাইলের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩৫৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্যের ভিত্তিতে রোববার সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ তথ্য জানান। সাংসদ বেগম নূর আফরোজ আলীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর খেলাপি ঋণ আদায় করা হয়েছে। এ বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৫৯১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। অর্থমন্ত্রী ঋণখেলাপির পূর্ণাঙ্গ তালিকা জাতীয় সংসদে প্রকাশ করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি পৃথক টাস্কফোর্স সেল গঠন করা হয়েছে। ওই সেলের মাধ্যমে অর্থঋণ আদালতসহ অন্যান্য আদালতে দায়েরকৃত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সুপারভিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রীর সংসদে দেয়া ঋণখেলাপি শীর্ষ ৩০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছেÑ বেক্সিমকো টেক্সটাইল (৩৫৩ কোটি), পদ্মা টেক্সটাইল (২৯১ কোটি), বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (২৬৭ কোটি), এসডিএস ইন্টারন্যাশনাল (১৩৯ টাকা), শাইনপুকুর হোল্ডিংস (১৩৪ কোটি), মাগুরা পেপার মিলস (১২৬ কোটি), আদমজী জুট মিলস (১২৪ কোটি), ফেয়ার এক্সপো উইভিং মিলস (৯৬ কোটি), বেক্সিমকো নিটিংস (৮১ কোটি), রিভার সাইড লেদার এন্ড ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ (৭৮ কোটি), আর্চ লিমিটেড (৭৭ কোটি), বাংলাদেশ অটোরিক্সাচালক শ্রমিক ফেডারেশন (৭৭ কোটি), সামসুল আল-আমিন কটন মিলস লিমিটেড (৭৪ কোটি), খুলনা নিউজ প্রিন্ট মিলস (৭১ কোটি), কওমী জুট মিলস (৬৬ কোটি), দেশ ভেবারেজ কোং লিমিটেড (৬১ কোটি), সামিনা ট্যানারি প্রাইভেট লিমিটেড (৬১ কোটি), স্টার সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (৬০ কোটি), বিক্রমপুর পটেটো ফ্লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজ (৬০ কোটি) বেক্সিমকো ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (৫৯ কোটি), দেশমা সুজ ইন্ডাস্ট্রিজ (৫৯ কোটি), আরএম সুপার স্টিলস লিমিটেড (৫৮ কোটি), ওয়ান স্পিনিং মিলস লিমিটেড (৫৮ কোটি), লেক্সকো লিমিটেড (৫৪ কোটি), ন্যাশনাল সিমেন্ট লিমিটেড (৫৩ কোটি), হান্নান বাংলাদেশ এসোসিয়েটস লিমিটেড (৫৩ কোটি), ফাহিম মার্বেল কর্পোরেশন লিমিটেড (৫৩ কোটি), নির্মাণ ইন্টারন্যাশনাল কনস্ট্রাক্টিং কোম্পানি (৫১ কোটি, আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে) এবং ইসমাইল কার্পেট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (৫১ কোটি)।
সব টাকা ও মুদ্রায় বঙ্গবন্ধুর ছবি
আওয়ামী লীগের সাংসদ বেগম মেহের আফরোজ চুমকির প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিসংবলিত ৫ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত সব ধরনের নোট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে ২০১০ সাল থেকে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা যায়। তিনি জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি সংবলিত এক ও দুই টাকার নোট ও ধাতব মুদ্রা মুদ্রণের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক সাহায্য
জামায়াতে ইসলামীর সাংসদ এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বিদায়ী ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মূল এডিপির তুলনায় আরএডিপিতে বরাদ্দ শতকরা ১৫ ভাগ হ্রাস পেয়েছিল। কিন্তু বর্তমান অর্থবছরে এডিপি বরাদ্দ হ্রাস পাওয়ার কোন সম্ভাবনা পরিলক্ষিত হয়নি।
তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে প্রস্তাবিত এডিপি বরাদ্দ ৩০ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার মধ্যে বৈদেশিক সাহায্য বাবদ পাওয়া যাবে ১৬ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা (শতকরা ৫৩ দশমিক ৬৫ ভাগ)। তিনি জানান, বৈদেশিক সাহায্যের মধ্যে প্রকল্প সাহায্য বাবদ ১২ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা, বাজেট সাপোর্ট বাবদ সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা এবং খাদ্য সাহায্য বাবদ ২০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে।
রাজস্ব বোর্ডের দুর্নীতি তদন্ত
আওয়ামী লীগের সাংসদ বজলুল হক হারুন বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিআইসি-সেলের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করা হবে কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উত্থাপিত হলে তা তদন্ত করে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা সরকারের রুটিন কাজ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ওই সেলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনস্থ দুই কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে এবং এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আয়কর আইন অনুযায়ী মিথ্যা তথ্য প্রদান ও আয় গোপন করার জন্য মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এনজিও’র সুদের হার নিয়ন্ত্রণ
সাংসদ একেএম মাইদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বা এনজিওগুলোর সুদের হার ও অন্য বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক গঠিত মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি ইতিমধ্যে বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। ওই বিধিমালায় ক্ষুদ্রঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার শতকরা ১৫ ভাগ এবং সর্বোচ্চ বার্ষিক কার্যকরী সুদের হার শতকরা ৩০ ভাগ ধার্য করা হয়েছে। তিনি জানান, নির্ধারিত এ সুদ হার আরও যৌক্তিক করার লক্ষ্যে সরকার বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পর্যালোচনার মাধ্যমে নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
মোবাইল গ্রাহকসংখ্যা সাড়ে ৪ কোটি
সাংসদ শাহ জিকরুল আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু জানান, চলতি বছরের মে পর্যন্ত মোবাইল কোম্পানিগুলোর মোট গ্রাহকসংখ্যা ৪ কোটি ৬৪ লাখ। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ২ কোটি ১০ লাখ, বাংলালিংকের ১ কোটি ৯ লাখ, একটেলের ৮৮ লাখ, সিটিসেলের ১৯ লাখ, ওয়ারিদের ২৫ লাখ এবং সরকারি টেলিটকের গ্রাহকসংখ্যা মাত্র ১১ লাখ। তিনি জানান, নিবন্ধনবিহীন সিম পাওয়া গেলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ অনুযায়ী জরিমানাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নেয়া হয়। সাংসদ ইস্রাফিল আলমের প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রী জানান, মোবাইল সিম কার্ডের ওপর আরোপিত কর হ্রাসের কোন পরিকল্পনা সরকারের নেই।
সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবুর প্রশ্নের জবাবে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আরও জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে টেলিফোন বোর্ডকে তিনটি কোম্পানিতে পরিণত করা হয়। বর্তমান সরকার ওই তিনটি কোম্পানিকে আবার একীভূত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এতে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হবে না।

তথ্যসুত্র: http://www.jugantor.info/enews/issue/2009/07/06/news0276.php

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন আরও ৩৭ জন

sangbad_logo.gif
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক।।
 
নির্বাচন কমিশনে আপিলের শুনানি অব্যাহত রয়েছে। আজ সোমবার ঋণখেলাপি, দণ্ডপ্রাপ্ত ও বৈধ ঘোষিত মনোনয়নের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে আরও ৩৭ জন আবেদনকারী প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এনিয়ে দু’দিনে ৬৭ প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সর্বমোট ৩৮৮টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। বিস্তারিত »

৫শ’র বেশি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলঃ তালিকায় বহু হেভিওয়েট প্রার্থী

sangbad_logo.gif
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক।।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে সারাদেশে ৫ শতাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঋণখেলাপি, দণ্ডপ্রাপ্ত, সম্পদের হিসাবে গরমিল এবং ত্রুটিপূর্ণ অসম্পূর্ণ মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তালিকায় দুই প্রধান জোটের প্রভাবশালী নেতারা রয়েছেন। তবে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া অধিকাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্র। মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার ১২ প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন। আগামীকাল শনিবার ও রোববার এ আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত দু’দিন রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। বাছাইকালে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ ৫ শতাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আইন অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে প্রার্থীরা আপিলের সুযোগ পাবেন। গতকাল থেকেই নির্বাচন কমিশনে আপিল গ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের কাজী ফারুক আহম্মেদসহ ১২ জন আপিল করেছেন। আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টায় কমিশন সচিবালয় মিলনায়তনে এ আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিস্তারিত »

পিন্টু ১৬ কোটি টাকার ঋণ খেলাপিঃ ইসিতে নাম যাচ্ছে গয়েশ্বর কোরেশীরও

sangbad_logo.gif
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক।।

ঢাকা ৭ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দীন আহম্মেদ পিন্টুর ১৬ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকে তার এ ঋণখেলাপি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়মানুযায়ী পিন্টু মনোনয়নপত্র দাখিল করার আগে তার খেলাপি ঋণ পরিশোধ করেননি। এ কারণে খেলাপি হিসেবে তার নাম নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হচ্ছে। একইভাবে খেলাপি হিসেবে আলোচিত রাজনীতিবিদদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, পিডিপি সভাপতি ফেরদৌস আহমদ কোরেশী এবং বিএনপি নেতা মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদেরের নামও নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। কারণ এদের কেউই নির্বাচন কমিশনের বিধান মেনে মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে খেলাপি ঋণ নবায়ন করেননি। সূত্র জানায়, ঋণখেলাপি প্রার্থীদের তালিকা বাছাই করা শুরু করেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। রোববার মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ হওয়ার পর থেকেই মনোনয়নপত্র দাখিল করা প্রার্থীদের নামের তালিকা ব্যাংকগুলোতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ওই তালিকা দেখেই খেলাপিদের চিহ্নিত করছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। বিস্তারিত »