সংসদ রিপোর্টার
চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত এক কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপির সংখ্যা ২ হাজার ১৯৬ জন। এদের বিপরীতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ১৫ হাজার ৪৫১ কোটি ২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণখেলাপি বেক্সিমকো টেক্সটাইলের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩৫৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্যের ভিত্তিতে রোববার সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ তথ্য জানান। সাংসদ বেগম নূর আফরোজ আলীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর খেলাপি ঋণ আদায় করা হয়েছে। এ বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৫৯১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। অর্থমন্ত্রী ঋণখেলাপির পূর্ণাঙ্গ তালিকা জাতীয় সংসদে প্রকাশ করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি পৃথক টাস্কফোর্স সেল গঠন করা হয়েছে। ওই সেলের মাধ্যমে অর্থঋণ আদালতসহ অন্যান্য আদালতে দায়েরকৃত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সুপারভিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রীর সংসদে দেয়া ঋণখেলাপি শীর্ষ ৩০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছেÑ বেক্সিমকো টেক্সটাইল (৩৫৩ কোটি), পদ্মা টেক্সটাইল (২৯১ কোটি), বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (২৬৭ কোটি), এসডিএস ইন্টারন্যাশনাল (১৩৯ টাকা), শাইনপুকুর হোল্ডিংস (১৩৪ কোটি), মাগুরা পেপার মিলস (১২৬ কোটি), আদমজী জুট মিলস (১২৪ কোটি), ফেয়ার এক্সপো উইভিং মিলস (৯৬ কোটি), বেক্সিমকো নিটিংস (৮১ কোটি), রিভার সাইড লেদার এন্ড ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ (৭৮ কোটি), আর্চ লিমিটেড (৭৭ কোটি), বাংলাদেশ অটোরিক্সাচালক শ্রমিক ফেডারেশন (৭৭ কোটি), সামসুল আল-আমিন কটন মিলস লিমিটেড (৭৪ কোটি), খুলনা নিউজ প্রিন্ট মিলস (৭১ কোটি), কওমী জুট মিলস (৬৬ কোটি), দেশ ভেবারেজ কোং লিমিটেড (৬১ কোটি), সামিনা ট্যানারি প্রাইভেট লিমিটেড (৬১ কোটি), স্টার সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (৬০ কোটি), বিক্রমপুর পটেটো ফ্লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজ (৬০ কোটি) বেক্সিমকো ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (৫৯ কোটি), দেশমা সুজ ইন্ডাস্ট্রিজ (৫৯ কোটি), আরএম সুপার স্টিলস লিমিটেড (৫৮ কোটি), ওয়ান স্পিনিং মিলস লিমিটেড (৫৮ কোটি), লেক্সকো লিমিটেড (৫৪ কোটি), ন্যাশনাল সিমেন্ট লিমিটেড (৫৩ কোটি), হান্নান বাংলাদেশ এসোসিয়েটস লিমিটেড (৫৩ কোটি), ফাহিম মার্বেল কর্পোরেশন লিমিটেড (৫৩ কোটি), নির্মাণ ইন্টারন্যাশনাল কনস্ট্রাক্টিং কোম্পানি (৫১ কোটি, আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে) এবং ইসমাইল কার্পেট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (৫১ কোটি)।
সব টাকা ও মুদ্রায় বঙ্গবন্ধুর ছবি
আওয়ামী লীগের সাংসদ বেগম মেহের আফরোজ চুমকির প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিসংবলিত ৫ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত সব ধরনের নোট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে ২০১০ সাল থেকে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা যায়। তিনি জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি সংবলিত এক ও দুই টাকার নোট ও ধাতব মুদ্রা মুদ্রণের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক সাহায্য
জামায়াতে ইসলামীর সাংসদ এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বিদায়ী ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মূল এডিপির তুলনায় আরএডিপিতে বরাদ্দ শতকরা ১৫ ভাগ হ্রাস পেয়েছিল। কিন্তু বর্তমান অর্থবছরে এডিপি বরাদ্দ হ্রাস পাওয়ার কোন সম্ভাবনা পরিলক্ষিত হয়নি।
তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে প্রস্তাবিত এডিপি বরাদ্দ ৩০ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার মধ্যে বৈদেশিক সাহায্য বাবদ পাওয়া যাবে ১৬ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা (শতকরা ৫৩ দশমিক ৬৫ ভাগ)। তিনি জানান, বৈদেশিক সাহায্যের মধ্যে প্রকল্প সাহায্য বাবদ ১২ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা, বাজেট সাপোর্ট বাবদ সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা এবং খাদ্য সাহায্য বাবদ ২০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে।
রাজস্ব বোর্ডের দুর্নীতি তদন্ত
আওয়ামী লীগের সাংসদ বজলুল হক হারুন বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিআইসি-সেলের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করা হবে কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উত্থাপিত হলে তা তদন্ত করে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা সরকারের রুটিন কাজ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ওই সেলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনস্থ দুই কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে এবং এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আয়কর আইন অনুযায়ী মিথ্যা তথ্য প্রদান ও আয় গোপন করার জন্য মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এনজিও’র সুদের হার নিয়ন্ত্রণ
সাংসদ একেএম মাইদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বা এনজিওগুলোর সুদের হার ও অন্য বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক গঠিত মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি ইতিমধ্যে বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। ওই বিধিমালায় ক্ষুদ্রঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার শতকরা ১৫ ভাগ এবং সর্বোচ্চ বার্ষিক কার্যকরী সুদের হার শতকরা ৩০ ভাগ ধার্য করা হয়েছে। তিনি জানান, নির্ধারিত এ সুদ হার আরও যৌক্তিক করার লক্ষ্যে সরকার বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পর্যালোচনার মাধ্যমে নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
মোবাইল গ্রাহকসংখ্যা সাড়ে ৪ কোটি
সাংসদ শাহ জিকরুল আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু জানান, চলতি বছরের মে পর্যন্ত মোবাইল কোম্পানিগুলোর মোট গ্রাহকসংখ্যা ৪ কোটি ৬৪ লাখ। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ২ কোটি ১০ লাখ, বাংলালিংকের ১ কোটি ৯ লাখ, একটেলের ৮৮ লাখ, সিটিসেলের ১৯ লাখ, ওয়ারিদের ২৫ লাখ এবং সরকারি টেলিটকের গ্রাহকসংখ্যা মাত্র ১১ লাখ। তিনি জানান, নিবন্ধনবিহীন সিম পাওয়া গেলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ অনুযায়ী জরিমানাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নেয়া হয়। সাংসদ ইস্রাফিল আলমের প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রী জানান, মোবাইল সিম কার্ডের ওপর আরোপিত কর হ্রাসের কোন পরিকল্পনা সরকারের নেই।
সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবুর প্রশ্নের জবাবে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আরও জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে টেলিফোন বোর্ডকে তিনটি কোম্পানিতে পরিণত করা হয়। বর্তমান সরকার ওই তিনটি কোম্পানিকে আবার একীভূত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এতে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হবে না।
তথ্যসুত্র: http://www.jugantor.info/enews/issue/2009/07/06/news0276.php