একই ধরনের দুদকের সব মামলা বাতিল হয়ে যাবে: ব্যারিস্টার রফিক
হিরা তালুকদার:
আওয়ামী লীগ নেতা ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীরের সম্পদের দুর্নীতির মামলা বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগও। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা লিভ টু আপিল গতকাল প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিমের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের আপিল বিভাগ বেঞ্চ খারিজ করে হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখেন। এতে করে মহিউদ্দিন খান আলমগীরের ১৩ বছর কারাদণ্ড হওয়া সম্পদের দুর্নীতি মামলাটি চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়ে গেল।
বিস্তারিত »
যুগান্তর রিপোর্ট
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে দায়ের করা ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার সব কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। মামলাটি বাতিল চেয়ে তার দায়ের করা আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে বিচারপতি শামসুল হুদা ও বিচারপতি আবুবকর সিদ্দিকীর সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ ক্রয়ের সব প্রক্রিয়া খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শুরু হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে এ জাহাজ ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছেন বর্তমান আবেদনকারী শেখ হাসিনা। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন শেখ হাসিনা তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন। ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ ক্রয়ের অনুমোদন দিয়ে তিনি সরকারের রুলস অব বিজনেস ভঙ্গ করেননি। তাছাড়া আমরা পুরো বিষয় সম্পর্কে অবগত না হলেও মামলার এফআইআর ও চার্জশিট পড়ে যা বোঝা যায়, তাতে শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে কোন অর্থ আ্তসাৎ করেননি। তিনি নিজের লাভের জন্য বা অন্যকে লাভবান করিয়ে দেয়ার জন্য ফ্রিগেট ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছেন, এমন কোন উদ্দেশ্যও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি এ ক্রয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে কোন অসৎ কর্ম সম্পাদন করেননি।
বিস্তারিত »
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা নৌ-বাহিনীর ফ্রিগেট ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলা বাতিল ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো: শামসুল হুদা ও বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকীকে নিয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বাতিল আবেদনের রম্নলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি গ্রহণ করে গতকাল মঙ্গলবার এই রায় প্রদান করেন। হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিগত বিএনপি সরকার ফ্রিগেট ক্রয়ের লৰ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাজেট বরাদ্দ দেয়। এছাড়া ১৯৯৬ সালের ১২ জুন ক্রয় সংক্রান্ত মূল্যায়ন কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করে। তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়নি। একই বছরের ২৩ জুন ৰমতায় আসে আওয়ামী লীগ। এরপর ফ্রিগেট ক্রয়ে মন্ত্রিসভার সারসংৰেপ অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অনুমোদন দিয়ে কোন ভুল করেননি। রাষ্ট্রীয় কার্যের ধারাবাহিকতা রৰার জন্যই তিনি এই সিদ্ধান্ত দেন। রায়ে বলা হয়, রাজনৈতিক হয়রানির অস্ত্র হিসাবেই তার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়। রায়ে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নৌ-বাহিনীর প্রয়োজনে এই যুদ্ধ জাহাজ ক্রয় করা হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরম্নদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলা দায়ের করা হয়। যা বেআইনি ও অবৈধ। তাই মামলাটি খারিজ করা হল।
বিস্তারিত »
সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে চার মামলা স্থগিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ আগস্ট সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করায় বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা চারটি মানহানির মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। মামলাগুলো কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানাতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন আদালত।
বিস্তারিত »
আরো ৬৬৯টি মামলাকে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বিবেচনা করে তা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সভাকৰে মঙ্গলবার কমিটির বৈঠকের পর আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ১ হাজার ৭২টি মামলা নিয়ে আলোচনার পর কমিটি যাচাই-বাছাই করে দুর্নীতি দমন কমিশনের ছয়টিসহ মোট ৬৬৯টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। কমিশনের অন্য ছয়টিসহ মোট ১০৯টি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন নাকচ হয়েছে। অন্য মামলাগুলো পরবর্তী বৈঠকে উত্থাপনের জন্য বলা হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এই নিয়ে মোট ৩ হাজার ৫৬২টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করলো।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪ জনকে দুর্নীতি মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধ কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প দুর্নীতি মামলা থেকে এই অব্যাহতি দেয়া হয়। মামলায় অন্যান্যের মধ্যে অব্যাহতি পেয়েছেন সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক যুগ্ম-সচিব আসাদুজ্জামান ভুঁইয়া ও স্থপতি ইকবাল হাবিব। গতকাল রবিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কমিশনের উপ-পরিচালক মোঃ মনিরম্নজ্জামান খান ঢাকা সিএমএম আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
বিস্তারিত »
পোষ্ট করা হয়েছে অক্টোবর 19, 2009 তারিখে মন্তব্য(0)
কবির হোসেন : অবৈধ সম্পত্তি অর্জন ও সম্পদের হিসাব বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা ও মামলার অভিযোগ থেকে খালাস পেয়ে যা”েছন আরো প্রায় ৫০ রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও আমলা। এদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন সাজাপ্রাপ্ত। এসব সাজাপ্রাপ্তদের অধিকাংশই ভিআইপি। সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সাজা অবৈধ ঘোষণা ও তা বাতিল করায় অন্যদের পথও উন্মুক্ত হয়েছে। অন্যান্য সাজাপ্রাপ্তরাও একই যুক্তিতে হাইকোর্ট থেকে খালাস পেয়ে যাবেন। তবে এসব খালাস আদেশের বির”দ্ধে আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবীরা।
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে সাবেক এটর্নি জেনারেল ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক ভোরের কাগজকে বলেন, ২০০৭ সালের ১৮ ফেব্র”য়ারি দুদকের সচিব সম্পদের হিসাব চেয়ে আমার মক্কেলসহ ৫০ জনকে নোটিশ দিয়েছিলেন। কিন্তু দুদক আইন অনুযায়ী এ নোটিশ দেয়ার এখতিয়ার আছে একমাত্র কমিশনের। ঐ বছরের ৭ ফেব্র”য়ারি থেকে ২৫ ফেব্র”য়ারি পর্যন্ত কোনো কমিশন ছিল না। এ সময় পর্যন্ত সচিব কমিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন, যা আইনগতভাবে সচিব করতে পারেন না। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুদকের সচিবের কাজের বৈধতা দেয়ার জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঐ অধ্যাদেশটি বাতিল করেছে। এর ফলে সচিব সে সময় যেসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন তা অবৈধ হয়ে গেছে। তাই মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে দুদক সচিব যে নোটিশ দিয়েছিলেন তা ছিল অবৈধ। আর এ অবৈধ নোটিশের ভিত্তিতে দায়ের করা মামলাটিও ছিল অবৈধ। যে মামলার অনুমোদন ও দায়ের অবৈধ ছিল সে মামলার সাজাও অবৈধ। এ যুক্তিতে হাইকোর্ট আমাদের আপিল মঞ্জুর করেছেন। একই যুক্তিতে সচিব যাদেরকে নোটিশ দিয়েছিলেন তারাও হাইকোর্ট থেকে প্রতিকার পেয়ে যাবেন।
এ ধরনের মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে দুদকের আইনজীবী এডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, অবৈধ সম্পত্তি অর্জন ও সম্পদের হিসাব বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা এ ধরনের ১০০টির মতো মামলায় বিশেষ জজ আদালত সাজা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ জন ঐ সাজার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উ”চ আদালতে আপিল দায়ের করেছেন। এর মধ্যে দুদক সচিব নোটিশ দিয়েছিল ৫০ জনকে। এদের বেশির ভাগই সাজা পেয়েছেন এবং হাইকোর্টে এসেছেন। যেহেতু সচিবের নোটিশ পাঠানোর যুক্তিটিকে অধিক গুর”ত্ব সহকারে গ্রহণ করে হাইকোর্ট ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সাজা বাতিল করেছে, সেহেতু একই যুক্তিতে অন্যরাও হাইকোর্ট থেকে আপাতত প্রতিকার পেয়ে যাবেন। কিন্তু হাইকোর্টের রায়ের বির”দ্ধে আপিল করার যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। আমরা আপিল করার প্রস্তুতি নি”িছ। হাইকোর্টের রায়ের সার্টিফাইড কপি হাতে পেলেই আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করবো।
২০০৭ সালের ১৮ ফেব্র”য়ারি দুদক সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন ৫০ জন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং ব্যবসায়ী ও আমালদেরকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠায়। সম্পদের হিসাব না দিলে অথবা হিসাব বিবরণীতে তথ্য গোপন করলে তাদের বির”দ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে নোটিশপ্রাপ্ত ৫০ জনই সম্পদের হিসাব বিবরণীতে তথ্য গোপন করেছেন অথবা হিসাব দেয়া থেকে বিরত থেকেছেনÑ এমন অভিযোগে তাদের অধিকাংশের বির”দ্ধে দুদক বাদী হয়ে মামলা করে। পরে বিচার শেষে বিশেষ জজ আদালত দুদক আইন অনুযায়ী অধিকাংশ নোটিশপ্রাপ্তকে সাজা দেন।
সচিবের দেয়া নোটিশের প্রেক্ষিতে দায়ের করা মামলায় যারা সাজা পেয়েছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মন্ত্রী মোঃ নাসিম, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, শামীম ওসমান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, ডা. এইচ বি এম ইকবাল, জয়নাল হাজারী, এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা, হাজি মকবুল, পংকজ দেবনাথ ও মহিউদ্দিন আহমেদ।
বিএনপির যেসব নেতা সচিবের দেয়া নোটিশের প্রেক্ষিতে সাজা পেয়েছেন তারা হলেনÑ আলী আজগর লবী, আমান উল্লাহ আমান, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী আলম, আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া, চারদলীয় জোটের সাবেক এমপি ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মুফতি শহীদুল ইসলাম, এস রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ইঞ্জিনিয়ার মনজুর”ল আহসান মুন্সি, আব্দুল কাইয়ূম, আরিফুল হক চৌধুরী, এম নাছের রহমান বাবু, সাবেক সচিব আ ন হ আখতার হোসেন, সিবিএ নেতা বিএম বাকির হোসেন ও ফিরোজ মিয়া এবং জামাতের মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী।
এরা সবাই অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের হিসাব বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত। এসব সাজাপ্রাপ্তরা ছাড়া সচিবের নোটিশের প্রেক্ষিতে অন্য যাদের বির”দ্ধে মামলা দায়ের করা হয় হাইকোর্টের আদেশে তাদের মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। বিশেষ জজ আদালতের দেয়া সাজার কারণে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য হয়েছেন অথবা কারাভোগ করতে হয়েছে অনেক ভিআইপি রাজনীতিককে। ১/১১ এর পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতি দমনের নামে যে অভিযান শুর” করেছিলেন এবং সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত করে যে কয়েকটি তালিকা প্রকাশ করেছিলেন এ ৫০ জন প্রথম তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
মিলটন আনোয়ার: অবৈধসম্পদ অর্জনের মামলায় মহিউদ্দিন খান আলমগীরের সাজা বাতিল করে হাইকোর্ট যেরায় দিয়েছে সেই রায়ের আলোকে সুবিধা পাবেন ৫০ ভিআইপি, যাদের দুদক প্রথমদফায় নোটিস দিয়েছিলো। গতকাল মখার আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক এইপ্রতিবেদককে এ তথ্য জানান।
তিনিবলেন, ২০০৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দুদক মহীউদ্দীন খান আলমগীরসহ ৫০ জনকেসম্পদের হিসাব চেয়ে যে নোটিস দিয়েছিল সেটি ছিল অবৈধ। কেননা দুদকের আইনঅনুযায়ী এই সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস দেয়ার এখতিয়ার কেবল কমিশনের রয়েছে।আইন অনুযায়ী কমিশন বলতে এর চেয়ারম্যান ও অপর দুই কমিশনারকে বোঝায়।কিন্ত্ত ২০০৭ সালের ১৮ ফেব্রয়ারি ৫০ জনের সম্পদের হিসাব চেয়ে যে নোটিসদেয়া হয়েছে তা দিয়েছেন কমিশনের তৎকালীন সচিব দেলোয়ার হোসেন। তৎকালীনচেয়ারম্যানসহ অপর দুই কমিশনার পদত্যাগ করায় ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কমিশন ছিল না। ফলে এই সময়ের মাঝখানে সচিব আইনত কমিশনেরহয়ে নোটিস দিতে পারেন না।
বিষয়টিবুঝতে পেরে তৎকালীন সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করে সচিবের কাজের বৈধতা দেয়।কিন্ত্ত বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সচিবের কাজের বৈধতা দিয়ে জারি করাঅধ্যাদেশটি বাতিল করে। ফলে সম্পদের হিসাব চেয়ে ৫০ জনকে দেয়া নোটিস অবৈধহয়ে যায়।
যেহেতুনোটিসটি অবৈধ সেহেতু নোটিসের ভিত্তিতে যে মামলা ও সাজা হয়েছে তাও অবৈধ।এই বিবেচনায় আদালত মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সাজা বাতিল করে দিয়েছে। ফলে ১৮ফেব্রুয়ারি দুদকের নোটিসের ভিত্তিতে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বা সাজাহয়েছে তারা সবাই এই রায়ের সুবিধা পাবেন।
বিএনপিরযেসব নেতা ও তাদের পরিজন এই সুবিধা পাবেন তাদের মধ্যে রয়েছেন,- ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মীর নাসির, মির্জাআব্বাস, আমানউল্লাহ আমান, তরিকুল ইসলাম, মোসাদ্দেক আলী ফালু, হারিসচৌধুরী, সালাউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, রুহুল কুদ্দুসতালুকদার দুলু. গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, আলী আসগর লবী, নাসির উদ্দিন আহমেদপিন্টু, সাবেক এমপি সালাউদ্দিন আহমেদ, হাফিজ ইব্রাহীম, আবদুল ওয়াদুদভূঁইয়া, মুফতি সহিদুল ইসলাম, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মঞ্জুরুল আহসানমুন্সি, এম নাসের রহমান বাবু, ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম, আবদুল কাইয়ূম, আরিফুল হক চৌধুরী। আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- মো. নাসিম. আবুলহাসনাত আবদুল্লাহ. মোশাররফ হোসন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, শামীমওসমান, এইচবিএম ইকবাল, জয়নাল হাজারী, মোস্তফা রশীদ ই সুজা. মির্জা আজম, এএইচ এম মোস্তফা কামাল, হাজী সেলিম, হাজী মকবুল, সালমান এফ রহমান, আখতারজ্জামান বাবু, মুন্সিগঞ্জের মহিউদ্দিন আহমেদ, জাহাঙ্গীর কবির নানক ওপঙ্কজ দেবনাথ। জামাতের শাহজাহান চৌধুরী, সিবিএ নেতা বিএম বাকির, ফিরোজমিয়া, সাবেক জ্বালানিসচিব আনহ আখতার হোসেন এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যেবসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, যমুনা গ্রুপেরচেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলও এই রায়ের সুবিধা ভোগ করবেন। তাদের মামলাবাতিল ও সাজা খারিজ হতে পারে। সম্পাদনা: জুলফিকার রাসেল
নিজস্ব প্রতিবেদক আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরেরবিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অপরাধে বিশেষ জজআদালতের দেওয়া রায় বাতিল ও তাঁকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকালসোমবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. রইসউদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মহীউদ্দীনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে বিশেষ জজ আদালতের দেওয়া আদেশওবাতিল করা হয়েছে। হাইকোর্ট মহীউদ্দীন খানের আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেন। হাইকোর্ট আদেশে বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়েরের আগেসম্পদের হিসাব চেয়ে যে নোটিশ দিয়েছিল, তা অবৈধ ও বেআইনি হয়েছে। মামলারকার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মহীউদ্দীন খানের সম্পদের হিসাবদাখিলের জন্য দুদকের পক্ষে তৎকালীন সচিব যে নোটিশ দিয়েছেন, তা তিনি দিতেপারেন না। আইন অনুযায়ী নোটিশ দেবে কমিশন। কিন্তু ২০০৭ সালের ১৮ফেব্রুয়ারি দুদকের সচিব নোটিশ দিয়েছেন। এ নোটিশে দুদকের কমিশনারদেরকোনো সই নেই। কাজেই নোটিশের বৈধতা নেই। আর এই নোটিশের ভিত্তিতে মামলাকরা ও দণ্ড দেওয়ারও বৈধতা নেই। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারেরআমলে দায়ের করা মামলার বিরুদ্ধে করা কোনো আপিলের এটাই প্রথম রায়।মহীউদ্দীন খানের মামলায় এ ধরনের রায় দেওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে প্রথম৫০ জনকে দুদকের দেওয়া নোটিশের ভিত্তিতে যেসব মামলা দায়ের করা হয়েছিল ওশাস্তি দেওয়া হয়েছিল, সেসব মামলার সবগুলোর পরিণতি একই হবে বলে আইনজীবীরামনে করছেন। ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই দুদকের করা মামলায় মহীউদ্দীন খানকে ১৩ বছরের কারাদণ্ডও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন বিশেষ জজ আদালত। একই সঙ্গে তাঁর অবৈধভাবেঅর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও আদেশ দেওয়া হয়। বিশেষ জজ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরই হাইকোর্টে আপিল করা হয়। ২০০৮সালের ২৮ আগস্ট তাঁর আবেদেনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে হাইকোর্ট জামিন দেন। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মহীউদ্দীন খানের কৌঁসুলি ব্যারিস্টার রফিক-উল হকবলেন, হাইকোর্টের রায়ের মধ্যে দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এইরায়ের ফলে এ ধরনের সব মামলায় অভিযুক্ত ও দণ্ডপ্রাপ্তরা উপকৃত হবেন। দুদকের আইনজীবী খোরশেদ আলম বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ে দুদক হতাশ। রায়ের সত্যায়িত কপি পাওয়ার পরই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।’
পাবনায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমসহ ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, আওয়ামী লীগ, বিএনপির ৫ শতাধিক ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ফৌজদারি মামলা প্রত্যহারের আবেদন করেছেন। গতকাল রোববার ছিল এই আবেদনের শেষ দিন। পাবনা জেলা প্রশাসক আবেদনপত্রগুলোতে যাচাই-বাছাই এবং আইনগত মতামতের জন্য সরকারি কৌঁসুলির (পিপি) কাছে পাঠিয়েছেন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গতকাল আবেদনের শেষ দিনে পাবনায় ৫১ জন তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। ৩১ মে আবেদনের শেষ দিন পর্যন্ত এ নিয়ে পাবনায় আবেদনকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে শতাধিক।
বিস্তারিত »